indobokep borneowebhosting video bokep indonesia videongentot bokeper entotin videomesum bokepindonesia informasiku videopornoindonesia bigohot

ত্রিশ আয়াতের ভুল ব্যাখ্যার খন্ডন (১)

2

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আহমদিয়া মুসলিম জামা’আত (তথা কাদিয়ানি জামাত)’র প্রতিষ্ঠাতা মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (১৮৩৯-১৯০৮) রচিত বই ‘ইযালায়ে আওহাম’ এর মধ্যে ঈসা (আঃ)-কে মৃত সাব্যস্ত করতে পবিত্র কুরআনের ৩০টি আয়াতকে অপব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। এখানে তাদের অপব্যাখ্যার জবাব দেয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।

  • পাঠকবৃন্দের জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, লিখার পরিধি ছোট রাখতে অত্র লিখাটিতে কাদিয়ানিদের ভুল-ব্যাখ্যার কেবল বিশেষ বিশেষ অংশগুলো-ই উল্লেখ করেছি। তবে লিংক দিয়ে রাখলাম। জ্ঞানীরা দেখে নেবেন এবং দুই দিকের লিখা পড়ে ইসলামের সঠিক আকীদা (বিশ্বাস) উপলব্ধি করবেন। ওয়াস-সালাম!

কাদিয়ানিদের ভুল-ব্যাখ্যা পড়তে (ক্লিক করুন) : আহমদিয়া বাংলা

প্রথম ভাগ :

[১] সূরা আলে ইমরান/০৩:৫৫

اِذۡ قَالَ اللّٰہُ یٰعِیۡسٰۤی اِنِّیۡ مُتَوَفِّیۡکَ وَ رَافِعُکَ اِلَیَّ وَ مُطَہِّرُکَ مِنَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَ جَاعِلُ الَّذِیۡنَ اتَّبَعُوۡکَ فَوۡقَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ ۚ ثُمَّ اِلَیَّ مَرۡجِعُکُمۡ فَاَحۡکُمُ بَیۡنَکُمۡ فِیۡمَا کُنۡتُمۡ فِیۡہِ تَخۡتَلِفُوۡنَ  অর্থ: (স্মরণ কর) যখন আল্লাহ বললেন, ‘হে ঈসা! নিশ্চয় আমি তোমাকে পুরোপুরি নিয়ে নেব*। তোমাকে আমার নিকট উঠিয়ে নেব এবং যারা অবিশ্বাস করেছে, তাদের মধ্য থেকে তোমাকে পবিত্র (মুক্ত) করব। আর তোমার অনুসারীগণকে কিয়ামত পর্যন্ত অবিশ্বাসীদের উপর জয়ী করে রাখব। অতঃপর আমার কাছে তোমাদের প্রত্যাবর্তন (ঘটবে)। তারপর যে বিষয়ে তোমাদের মতান্তর ঘটেছে, তার মীমাংসা করে দেব। 

  • *মুতাওয়াফফীকা অর্থ: তোমাকে পুরোপুরি নিয়ে নেব, রাফিউকা অর্থ: তোমাকে উঠিয়ে নেব। হুবহু এই অনুবাদ কাদিয়ানিদের কথিত প্রথম খলিফা হেকিম নূরুদ্দিন সাহেব রচিত ‘তাসদীকে বারাহীনে আহমদিয়া’ গ্রন্থের প্রথম খন্ডের ৮ নং পৃষ্ঠায়-ও রয়েছে। কাজেই সত্য কখনো চিরকাল গোপন থাকেনা। বলা যায়, হেকিম সাহেব অন্ততপক্ষে তার-ই যেন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন! 

স্ক্রিনশটে দেখুন: 

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যা : এ আয়াতে আল্লাহ্ তা’লা হযরত ঈসা (আ.)-কে চারটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রথমটি তাঁর মৃত্যু, দ্বিতীয়টি তাঁর রা’ফা বা খোদার অসাধারণ নৈকট্য বা মৃত্যুর পর তাঁর আত্মিক উন্নতি, তৃতীয়টি কাফিরদের অপবাদ থেকে তাঁকে পবিত্র ঘোষণা করা, তাঁর পবিত্রতা প্রমাণ করা এবং অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে তাঁর অনুসারীদের প্রাধান্য লাভ। এ চারটি প্রতিশ্রুতি খোদা তা’লা যেভাবে বলেছেন সেই ধারাবাহিকতায় পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। খোদা তা’লা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছেন যে, প্রথমে তাঁর মৃত্যু হবে, আর প্রকৃতপক্ষে তাই হয়েছে। কেউ কেউ বলে, এ আয়াতে যেই ‘মুতাওয়াফ্‌ফীকা’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে এর অর্থ হলো আমি তোমাকে পুরা পুরা উঠাব বা পুরা পুরা গ্রহণ করবো। কিন্তু, এই অর্থ করার কোন সুযোগ নেই, কারণ রসুল করীম (সা.)-এর সাহাবী হযরত ইবনে আব্বাস স্বয়ং বলেছেন যে, ‘মুতাওয়াফ্‌ফীকা’ অর্থ ‘মুমীতুকা’ অর্থাৎ আমি তোমাকে মৃত্যু দেব। সুতরাং, আয়াতে উল্লেখিত বিষয়াবলীর ধারাবাহিকতায় প্রথমে তাঁর মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে, আর কার্যত তাই হয়েছে এবং হযরত ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু ঘটেছে। 
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধন :

মুতাওয়াফফীকা (المتوفى) শব্দের মাসদার বা ক্রিয়া-বিশেষ্য হল توفى (তাওয়াফফা) এবং এর মূলধাতু হল وفى (ওয়াফয়ু), যার আক্ষরিক অর্থ— পুরোপুরি নিয়ে নেওয়া। পবিত্র কুরআনের সূরা নিসা, আয়াত নং ১৫ দ্রষ্টব্য। যেমন আল্লাহ বলেন :

  • وَ الّٰتِیۡ یَاۡتِیۡنَ الۡفَاحِشَۃَ مِنۡ نِّسَآئِکُمۡ فَاسۡتَشۡہِدُوۡا عَلَیۡہِنَّ اَرۡبَعَۃً مِّنۡکُمۡ ۚ فَاِنۡ شَہِدُوۡا فَاَمۡسِکُوۡ ہُنَّ فِی الۡبُیُوۡتِ حَتّٰی یَتَوَفّٰہُنَّ الۡمَوۡتُ اَوۡ یَجۡعَلَ اللّٰہُ لَہُنَّ سَبِیۡلًا অর্থঃ ‘তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য হতে চার জন (পুরুষ) সাক্ষী উপস্থিত কর। সুতরাং যদি তারা সাক্ষ্য দেয়, তাহলে তাদেরকে গৃহবন্দী করে রাখ, যে পর্যন্ত না মৃত্যু তাদেরকে পুরোপুরি নিয়ে নেয়। অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোনো ব্যবস্থা করেন।’

অতএব ‘তাওয়াফফা’ এর আক্ষরিক অর্থ মৃত্যুবলা তাদের একদম সঠিক হয়নি। 

  • শায়খ ইবনে তাইমিয়্যা (রহঃ) এর কিতাব থেকে  ‘তাওয়াফফা’ (التوفي/توفي) শব্দের স্থান-ভেদে একাধিক অর্থ থাকার প্রমাণ :

তাওয়াফফা (توفي)-এর অর্থ কয়টি ও কী কী? এর প্রতিউত্তরে খোদ মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী কর্তৃক স্বীকৃত সপ্তম শতাব্দীর যুগ ইমাম ও মুজাদ্দিদ শায়খ ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহঃ) তাঁর ‘আল জাওয়াবুস সহীহ‘ কিতাবের ৪র্থ খণ্ডের ৩৮ নং পৃষ্ঠায় লিখেছেনঃ “আরবী অভিধানে “তাওয়াফফা” শব্দটি ৩টি অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যথা- (১) নিদ্রা (২) মৃত্যু (৩) রূহ এবং শরীর দুটো এক সঙ্গে নিয়ে নেয়া।” সুতরাং কাদিয়ানী সম্প্রদায় “তাওয়াফফা” শব্দকে ‘মৃত্যু’ অর্থের জন্য খাস কিবা এটি ভিন্ন কোনো অর্থে ব্যবহৃত হবেনা – মনে করা সঠিক নয় বলেই প্রমাণিত হল! (স্ক্রিনশট দেখুন)।  তবে হ্যাঁ মানুষ মারা গেলে তজ্জন্য ‘ওফাত’ শব্দ-ও ব্যবহার করা হয়। কারণ, তার শারীরিক স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই দিক দিয়ে ‘ওফাত’ শব্দটি ‘মৃত্যু’ অর্থে রূপক।

ঘুমের অবস্থায়ও যেহেতু মানুষের স্বাধীনতা কিছু কালের জন্য নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে, তাই ‘ওফাত’ শব্দটি ‘ঘুম’ অর্থেও রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ থেকে জানা গেল যে, এর যথাযথ ও প্রকৃত অর্থ শুধুই কেবল, পুরোপুরি নেওয়া, পূর্ণকরা। ‘ইন্নী মুতাওয়াফফীকা‘ আয়াতে ‘ওফাত’কে এই প্রকৃত অর্থেই ব্যবহার করা হয়েছে। এর দ্বারা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন বলতে চেয়েছিলেন, হে ঈসা! আমি তোমাকে ইয়াহুদীদের চক্রান্ত থেকে বাঁচিয়ে পরিপূর্ণভাবে আমার কাছে আসমানে উঠিয়ে নেব। ঈসা (আঃ)-এর প্রতি যে কয়টি প্রতিশ্রুতি ছিল তন্মধ্যে এটি সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়িত হয়ে যায়। অর্থাৎ ঈসাকে পুরোপুরি নিয়ে নেয়া হয়।

তারপর ‘রাফা’আ‘ (উঠিয়ে নেয়া) শব্দ। ‘মুতাওয়াফফীকা’ এর পরে রাফা’আ উল্লেখ না করা হলে তখন প্রশ্ন আসত ‘তাহলে ঈসাকে নিয়ে নেবার ধরণ কেমন ছিল? মৃত্যু দিয়ে নাকি জীবিত সশরীরে উঠিয়ে নেয়ার মাধ্যমে?’  “রাফা’আ” শব্দের মাধ্যমে তারই সমাধান দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ মৃত্যু দিয়ে নয়, বরং সশরীরে উঠিয়ে নেয়ার মাধ্যমে। কেননা, ঈসা শুধুমাত্র আত্মার নাম নয়, বরং আত্মা এবং সত্তা দুটোর সমষ্টির নাম ঈসা। তাই শুধুমাত্র ঈসার আত্মা-কে উঠিয়ে নেয়ার ব্যাখ্যা শুধু ভুল-ই নয়, অযুক্তিকও। এভাবে একই সাথে দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়ে যায়। এটাই উম্মতে মুহাম্মদিয়া’র সর্ব-সম্মত মত। 

এখানে আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে, যদিও বা কেউ কেউ ‘ওফাত’ এর রূপকার্থের প্রসিদ্ধতার কারণে আয়াতে ‘তাওয়াফফা’ অর্থ ‘মৃত্যু’ নিয়েছেন। তবে তারা এও বলেছেন যে, শব্দের মধ্যে আগে পিছে হয়ে আছে। অর্থাৎ, رَافِعُكَ (তোমাকে [আসমানে] উঠিয়ে নিব) এর অর্থ আগে হবে। আর مُتَوَفِّيْكَ এর অর্থ পরে হবে। অর্থাৎ, আমি তোমাকে প্রথমে [আসমানে] উঠিয়ে নিব। তারপর পুনরায় যখন দুনিয়াতে অবতরণ করব, তখন তোমার মৃত্যু দান করব। তাদের মধ্যে রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) অন্যতম।

সহীহ বুখারীতে مُتَوَفِّيْكَ এর অর্থ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে মূলত এই অর্থেই مميتك [মুমীতুকা] (অর্থাৎ তোমাকে মৃত্যু দেব) শব্দ উল্লেখ আছে। তার প্রমাণ বিশিষ্ট মুজাদ্দিদ ইমাম সুয়ূতী (রহঃ) রচিত ‘দুররে মানছূর‘ কিতাবের তৃতীয় খন্ডে অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে আরেকটি হাদীসে এসেছে يعنى رافعك ثم متوفيك فى آخر الزمان (অর্থাৎ তোমাকে উঠিয়ে নিব অতপর শেষ যুগে তোমাকে ওফাত [মৃত্যু] দেব)। সুতরাং ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর মুমীতুকা বলার আসল উদ্দেশ্য কী এখন পরিস্কার। এককথায়, যেন বুঝানো হয়েছে যে, ইয়াহুদীদের হাতে তুমি (ঈসা) পাকড়াও হবে তো দূরে থাক, তারা তোমার নাগাল-ও পাবে না (০৫:১১০), বরং তুমি শেষ যুগে আবার এসে স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করবে। (আবুদাউদ : কিতাবুল মালাহিম)। ওফাতের আরেক অর্থঃ নির্দিষ্ট কাল পূর্ণ করা। (ফাতহুল ক্বাদীর, ইবনে কাসীর)।

তারপর ‘মুত্বাহহিরুকা‘ এর সঠিক ব্যাখ্যায় আসা যাক! এখানে সেই সমস্ত অপবাদ থেকে পবিত্রকরণকে বুঝানো হয়েছে, যা ইয়াহুদীরা তাঁর উপর আরোপ করত। সুতরাং শেষ নবী (সাঃ)-এর মাধ্যমে তাঁর পবিত্রতার কথা বিশ্ববাসীর সামনে পেশ করা হয়েছে। অথবা পবিত্র করার অর্থঃ কাফেরদল থেকে তাঁকে মুক্ত করা, তাদের পাকড়াও থেকে তাঁকে বাঁচিয়ে নেওয়া। ঈসা (আঃ)-কে উঠিয়ে নেয়ার মাধ্যমে এই প্রতিশ্রুতিও পূর্ণ হয়ে গেছে। 

তারপর তাঁর প্রকৃত অনুসারীদের বিজয়ী রাখার প্রতিশ্রুতি। অত্র আয়াত ‘ওয়া জা-ঈলুল্লাযীনা‘ দ্বারা হয়তো ইয়াহুদীদের উপর খ্রিষ্টানদের জয়ী থাকাকে বুঝানো হয়েছে। এরা ইয়াহুদীদের উপর কিয়ামত পর্যন্ত জয়ী থাকবে; যদিও তারা তাদের ভ্রান্ত আকীদার কারণে আখেরাতে মুক্তি লাভ থেকে বঞ্চিত থাকবে। অথবা মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উম্মতের জয়ী থাকাকে বুঝানো হয়েছে; যারা ঈসা (আঃ) এবং অন্যান্য সমস্ত নবীকে সত্য বলে জানে এবং তাঁদের সঠিক ও অপরিবর্তিত দ্বীনে (ইসলামে)র অনুসরণ করে। সুতরাং উম্মতে মুহাম্মদিয়ার সর্ব-সম্মত ব্যাখ্যার বাহিরে নতুন যে কোনো ব্যাখ্যা-ই যেখানে সঠিক নয়, সেখানে ঈসা (আঃ)-কে এ সমস্ত আয়াত দিয়ে তাঁর নির্ধারিত মেয়াদকাল পূর্ণ হওয়ার আগেই ‘মৃত’ সাব্যস্ত করা কাদিয়ানিদের জন্য বৈধ হয় কিভাবে?

এখন একটি প্রশ্ন। ঈসা (আঃ)-এর প্রকৃত অনুসারীরা ইয়াহুদীদের উপর কিয়ামত পর্যন্ত জয়ী থাকলে তাঁর (আঃ) দ্বিতীয় আগমনের পর সকল আহলে কিতাবী তাঁর উপর ঈমান এনে কিভাবে মুসলমান হবে?

এর উত্তর হচ্ছে, প্রথমত, এখানে সকল ‘আহলে কিতাবী’ বলতে তদানিন্তন সময়কার সকল আহলে কিতাবী উদ্দেশ্য। বহু হাদীস আর বহু যুগ ইমাম থেকে এইরূপ-ই বিধৃত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ‘কেয়ামত পর্যন্ত’ বলতে মূলত ‘সুদীর্ঘকাল ব্যাপী‘ সময়কে বুঝানো উদ্দেশ্য। আর সেই সময়টির মেয়াদ ঈসা (আঃ) এর দ্বিতীয়বার আগমনকরা পর্যন্ত। একথার সমর্থনে সহীহ মুসলিম শরীফের “কিতাবুল ইমারাত” পর্বে ‘উম্মতের একটি দল অবিরাম সত্যের উপর বিজয়ী বেশে টিকে থাকা’ শীর্ষক অধ্যায়ের ১৯২২ নং হাদীসটি দেখে নিতে পারেন। হযরত জাবের ইবনে সামূরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূল (সাঃ) বলেছেন : لا تزال طائفة من امتى يقاتلون على الحق ظاهرين الى يوم القيامة অর্থাৎ মুসলমানদের একটি দল দ্বীন প্রতিষ্ঠার ক্বিতাল [সশস্ত্র লড়াই] কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত রাখবে। (স্ক্রিনশট  দ্রষ্টব্য)

একটু ভাবুন তো, হাদীসটিতে “কেয়ামত পর্যন্ত” কথার উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও সহীহ বুখারীর কিতাবুল আম্বিয়া’র ৩২৬৪ নং হাদীসে রাসূল (সাঃ) থেকে আবার এটা-ও উল্লেখ আছে, ঈসা ইবনে মরিয়ম (আঃ) এর নুযূলের পর জিহাদ রহিত হয়ে যাবে! কী বুঝা গেল? তাই ওদের এ সমস্ত অগভীর ও অজ্ঞতাপূর্ণ কথাবার্তায় ধোকা খাওয়ার কোনোই প্রয়োজন নেই। তাই উক্ত আয়াতকে ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যু হয়ে যাওয়ার সমর্থনে দলিল বানানো ঠিক হবেনা।

[২] সূরা নিসা/০৪:১৫৮

بَلۡ رَّفَعَہُ اللّٰہُ اِلَیۡہِ ؕ وَ کَانَ اللّٰہُ عَزِیۡزًا حَکِیۡمًا অর্থ: বরং আল্লাহ তাঁকে নিজের কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যা : ইহুদীরা তাঁকে অভিশপ্ত আখ্যায়িত করার মানসে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু, খোদা তা’লা বলেন, এমন নয় বরং আল্লাহ্ তাঁর রাফা করেছেন’ অর্থাৎ তাঁর সম্মানজনক মৃত্যু হয়েছে, অভিশপ্ত নয়। রাফা শব্দ সম্মানজনক মৃত্যুর জন্যই ব্যবহার করা হয়। যেমন, হযরত ইদ্রিস (আ.)-এর জন্য আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনে এই শব্দ মৃত্যুর অর্থে ব্যবহার করেছেন। হাদীসেও মহানবী (সা.)-এর তিরোধানের পর সাহাবাদের উক্তি আছে যে, আল্লাহ্‌ স্বীয় নবীর রাফা করেছেন, অর্থাৎ তিনি মৃত্যুর পর খোদার সন্নিধানে সম্মানজনক স্থানে আসীন হয়েছেন। রাফা শব্দ পদমর্যাদায় উন্নতির জন্য ব্যবহৃত হয়, দেহ আকাশে যাওয়ার জন্য নয়। এর প্রমাণ হলো সূরা মুজাদিলার আয়াত নং ১২, যেমন আল্লাহ্ তা’লা বলেন: يَرْفَعِ اللّٰهُ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا مِنْكُمْۙ وَالَّذِيْنَ اُوْتُوْا الْعِلْمَ دَرَجٰتٍ‌ؕ অর্থাৎ, তোমাদের মধ্য হতে যারা ঈমান আনে এবং যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে আল্লাহ্ তাদের পদমর্যাদার রা’ফা (উন্নীত) করেন, অর্থাৎ তাদের পদমর্যাদা উন্নীত হয়। “রাফা”-র ফলে তাদের দেহ আকাশে যায় না।

ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধন :

কাদিয়ানীদের বক্তব্য, ইহুদীরা তাঁকে অভিশপ্ত আখ্যায়িত করার মানসে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করেছিল। তাদের আরো দাবী হল, তাঁকে ইহুদীরা ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করার ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করতে আল্লাহ্ তাঁর রাফাআ করেছেন’ অর্থাৎ তাঁর সম্মানজনক মৃত্যু হয়েছে, অভিশপ্ত নয়। (তাদের দাবী শেষ হল)। ঈসা (আঃ) সম্পর্কে তাদের সর্বশেষ যেই দাবী (অর্থাৎ তাঁকে শুলিবিদ্ধ করা হলে-ও শূলির উপর তাঁর মৃত্যু হয়নি) মূলত সেটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল একটি মতবাদ। কেননা ইহুদীরা যেখানে ঈসার পাত্তা-ই পায়নি সেখানে তাঁর শুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রশ্ন আসে কিভাবে? সূরা মায়েদার ১১০ নং আয়াত ‘ওয়া ইয কাফাতু বানী ইসরাঈলা আনকা…’ (অর্থাৎ স্মরণ কর সেই সময়ের ঘটনাটির যখন আমি বনী ইসরাইলকে তোমা হতে নিবৃত রেখেছিলাম) দ্বারা একদম সুস্পষ্ট যে, বনী ইসরাইলী সন্ত্রাসীদের পাকড়াও থেকে আল্লাহ তাঁকে পুরোপুরি নিবৃত্ত রেখেছিলেন। ফলে তারা তাঁর নাগাল পেতেও ব্যর্থ ছিল। কাজেই কুরআন যেখানে সুস্পষ্টরূপে সাক্ষী দিচ্ছে যে, ঈসা তদানীংকাল সময় বনী ইসরাইলী সন্ত্রাসীদের হাতে পাকড়াও হননি, সেখানে কাদিয়ানীদের বিশ্বাস, ঈসা পাকড়াও হয়েছিল, শুলিবিদ্ধ-ও হয়েছিল; যদিও বা শূলির উপর তৎক্ষণাৎ তাঁর মৃত্যু হয়নি, বরং পরবর্তীতে তিনি আরো ৮৭ বছর জীবন লাভ করে মোট ১২০ বছর বয়সে কাশ্মীরের শ্রীনগরে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের এ সমস্ত গল্প-কাহিনী সম্পূর্ণ কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী ও বানোয়াটি ছাড়া কিছুনা। আরেকটি কথা হল, ঈসা (আঃ)-কে শূলিবিদ্ধ করা হয়েছিল, তাদের এই বিশ্বাসটাও মূলত কুরআন বিরোধী। অথচ আল্লাহ বলেছেন, ওয়া মা ছালাবূহু (অর্থাৎ আর তারা তাঁকে শুলিবিদ্ধ-ও করেনি)। দেখুন, সূরা নিসা : ১৫৭।

আবার কাদিয়ানীদের বক্তব্য এটাও যে, ঈসাকে শূলিতে ছড়ানো হলেও তাঁর মৃত্যু শূলির উপর না হওয়াটা তাঁর জন্য সম্মানজনক ছিল, নতুবা তাঁর মৃত্যুকে অভিশপ্ত মৃত্যু বলে আখ্যা দেয়া হত! কিন্তু তাদের যখন প্রশ্ন করা হয় যে, তাহলে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শূলিতে চড়িয়ে ঈসাকে রক্তাক্ত করা-ও কি তাঁর জন্য সম্মানজনক ছিল বলবেন? কবি তখন নিরব! আসলে তাদের এ সমস্ত কথা পুরোপুরি দলিল প্রমাণহীন। কেননা, ঈসা (আঃ) ষড়যন্ত্র আঁচ করতে পেরেই বাঁচার আকূতি নিয়ে যখন আল্লাহর নিকট দোয়া করেছিলেন (০৩:৫২) তখন আল্লাহতালা প্রতিউত্তরে ঈসাকে ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন, “ওয়া মাকারূ ওয়া মা কারাল্লাহু…(০৩:৫৪) অর্থাৎ ‘তারা ষড়যন্ত্র করছে আর আল্লাহ সেই ষড়যন্ত্রের মুকাবিলায় সর্বোত্তম কৌশল অবলম্বন করছেন।’ এখন প্রশ্ন হল, বনী ইসরাইলী ইহুদীদের মুকাবিলায় আল্লাহর সেই সর্বোত্তম কৌশলটা কি ঈসাকে সম্পূর্ণরূপে রক্ষা না করেই ইহুদীদের হাতে তুলে দেয়া? কাদিয়ানীদের এই ব্যাপারটি ভাবিয়ে তুলেনা কেন?

  সে যাইহোক, (আল্লাহ তাঁকে নিজের কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন – নিসা : ১৫৮) এই আয়াত দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তাআলা নিজের অলৌকিক শক্তি দ্বারা ঈসা (আঃ)-কে জীবিত অবস্থায় সশরীরে আসমানে তুলে নিয়েছেন। বহুধা সূত্রে বর্ণিত হাদীসেও এ কথা প্রমাণিত আছে। এ সকল হাদীস হাদীসের সমস্ত গ্রন্থ ছাড়াও বুখারী ও মুসলিমে-ও বর্ণিত হয়েছে। সে সব হাদীসে ঈসা (আঃ)-কে আসমানে তুলে নেওয়া ছাড়াও পুনরায় প্রলয় দিবসের প্রাক্কালে পৃথিবীতে তাঁর অবতরণ এবং আরো বহু কথা তাঁর ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে একটি সহীহ হাদীস নিম্নরূপ :

সহীহ বুখারী (ইফাঃ) অধ্যায়ঃ ৫০/ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء) হাদিস নম্বরঃ ৩২০৬ باب نُزُولُ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عليهما السلام (অর্থাৎ ঈসা ইবনে মরিয়ম (আঃ) এর অবতরণের বর্ণনা)।

حَدَّثَنَا ابْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ نَافِعٍ، مَوْلَى أَبِي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا نَزَلَ ابْنُ مَرْيَمَ فِيكُمْ وَإِمَامُكُمْ مِنْكُمْ ‏”‏‏.‏ تَابَعَهُ عُقَيْلٌ وَالأَوْزَاعِيُّ‏.‏  

অর্থ: ইবনু বুকাইর (রহঃ)…আবূ হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “তোমাদের অবস্থা কেমন (আনন্দের) হবে যখন তোমাদের মাঝে মরিয়ম তনয় ঈসা (আলাইহিস সালাম) অবতরণ করবেন আর তোমাদের ইমাম তোমাদের মধ্য থেকেই হবে।” 

ইমাম ইবনে কাসীর (রহঃ) ‘তাফসিরে ইবনে কাসীর’ কিতাবের ২য় খন্ডে সূরা নিসা’র ১৫৮-৫৯ নং আয়াতের তাফসীর অংশে এই সমস্ত হাদীসকে বর্ণনা করার পূর্বে শিরোনাম দিয়েছেন এইরূপ : ذكر الأحاديث الواردة فى نزول عيسى بن مريم إلى الأرض من السماء فى آخر الزمان قبل يوم القيامة অর্থ : কেয়ামতের পূর্বে শেষ যুগে আকাশ থেকে পৃথিবীতে ঈসা ইবনে মরিয়ম আঃ এর অবতরণ করা বিষয়ক হাদীসগুলোর আলোচনা। তিনি শেষে লিখেছেন, উল্লিখিত হাদীসগুলো রসূল (সাঃ) হতে বহুধা সূত্রে প্রমাণিত। এই সমস্ত হাদীসে তিনি কোথায় ও কিভাবে অবতরণ করবেন তা উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন হাদীসে এসেছে, তিনি (ঈসা) দিমাশকের পূর্বপ্রান্তে (তথা বায়তুল মোকাদ্দাসের সন্নিকটে – মেরকাত, কিতাবুল ফিতান ১০/১২০ দ্রষ্টব্য) বিদ্যমান সাদা মিনারা’র কাছে দু’জন ফেরেশতার দুই ডানায় আপনা দুই বাহু রাখা অবস্থায় অবতরণ করবেন। তিনি শূকর হত্যা করবেন, ক্রুস ভেঙ্গে ফেলবেন ও জিযিয়া কর বাতিল করে দিবেন। তাঁর শাসনামলে [কোনো অমুসলিম না থাকায়] জিহাদ আপনা-আপনি রহিত হয়ে যাবে। (সহীহ মুসলিম : কিতাবুল ফিতান, হা/৫০১)

কাদিয়ানিদের দাবী : সূরা নিসার ১৫৭ নং আয়াত ‘ওয়া রাফেউকা ইলাইয়্যা’ এর মধ্যে হযরত ঈসা (আঃ)-কে আল্লাহ কর্তৃক রাফা করার অর্থ তাঁকে উন্নীত করা বা সম্মান বৃদ্ধিকরা বুঝিয়েছেন কিন্তু সশরীরে তাঁকে উঠিয়ে নেয়া বুঝাননি।”

বক্তব্যের ভুল সংশোধন : কাদিয়ানিদের উক্ত বক্তব্যের খন্ডনে বলা হবে যে, এটি তাদের পুরোপুরি নতুন একটি বানোয়াট কথাবার্তা । তাদের মত এধরনের কথাবার্তা গত ১৩শ বছরের তাফসীর আর ইসলামের ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যায়না। খুব খেয়াল রাখতে হবে, ঈসা ইবনে মরিয়ম শুধু কেবল কোনো রূহের নাম নয়, বরং রূহ এবং শরীর দুটো মিলেই ঈসা। পবিত্র কুরআনে ঈসা (আঃ)-কে উঠিয়ে নেয়া প্রসঙ্গে শব্দটি রাফেউকা (رافعك) এসেছে। আপনি আরবী ডিকশনারি খুলে দেখুন, ‘রাফা’আ‘ এর প্রকৃত অর্থ – উঠানো, তুলে নেয়া, পাবেন। তাই ‘রাফেউকা’ দ্বারা উদ্দেশ্য হবে, আল্লাহতায়ালা ঈসাকে সশরীরে উঠিয়ে নিয়েছেন।

হয়ত প্রশ্ন জাগবে যে, সশরীরে উঠিয়ে নেয়ার পক্ষে যুক্তিকতা কতটুকু?

উত্তরে বলা হবে, ইহুদীদের ষড়যন্ত্র ছিল ঈসাকে পাকড়াও করে হত্যা করা। আর আমরা জানি, হত্যা কখনো ‘রূহ’ এর উপর সংঘটিত হয়না, হয় শরীরের উপর। আর আল্লাহতায়ালার ‘রাফেউকা’ বলাটা কিন্তু তাদের সেই ষড়যন্ত্রের-ই মুকাবেলায ছিল। তাই তোমাকে উঠিয়ে নেব- এখানে “তোমাকে” বলতে রূহ এবং শরীর উভয়ের সমষ্টি ঈসা-ই উদ্দেশ্য হওয়া যুক্তিক। যেজন্য ‘সশরীরে উঠিয়ে নেয়া’ অর্থই সঠিক। সকল সাহাবী, তাবেয়ী এবং যুগ ইমাম ও তাফসীরকারকগণও ‘সশরীরে উঠিয়ে নেয়া’ অর্থ করে গেছেন। ফলে এর বিপরীত যে কোনো নতুন বুঝ ও ব্যাখ্যা সর্বোতভাবে পরিত্যাজ্য।

রাফা’আ (رفع) এর অর্থ : আমাদের জানা থাকা জুরুরি যে, পবিত্র কুরআনের যেসব স্থানে “রাফা’আ” শব্দের মাফউল (কর্ম/object) কোনো ব্যক্তি বা বস্তুবাচক পদ না হয়ে বরং দারাজাত‘ (মর্যাদা) ধরণের অবস্তুবাচক কোনো পদ হবে (সূূূরা মুযাদালাহঃ ১১ দ্রঃ) অথবা তার প্রকৃত অর্থ পরিত্যাজ্য হবে, শুধুমাত্র তখনি শব্দটি তার প্রকৃত অর্থ থেকে বের হয়ে রূপক (উন্নীতকরা) অর্থে ব্যবহৃত হবে। (সূরা আ’রাফঃ ১৭৬ দ্রঃ)। যেমন আল্লাহ বলেন ﻭَﻟَﻮْ ﺷِﺌْﻨَﺎ ﻟَﺮَﻓَﻌْﻨَﺎﻩُ ﺑِﻬَﺎ অর্থাৎ যদি আমি চাহিতাম তাহলে এই আয়াতগুলোর মাধ্যমে আমি তাকে মর্যাদাবান করতাম। 

আর যেসব স্থানে “রাফা’আ” শব্দের মাফউল (কর্ম) কোনো ব্যক্তি বা বস্তুবাচক পদ হবে সেখানে “রাফা’আ” তার প্রকৃত অর্থে উঠানো বা উপরে তোলা এজাতীয় অর্থে ব্যবহৃত হবে। যেমন সূরা আলে ইমরান আয়াত নং ৫৫; সূরা নিসা আয়াত নং ১৫৭; সূরা ইউসুফ ১০০; সূরা বাক্বারা ৬৩; সূরা রা’দ ০২ এবং সূরা মরিয়ম ৫৭ ইত্যাদি। 

এবার সূরা মরিয়ম আয়াত নং ৫৭ সম্পর্কে জেনে নেব :

সূরা মরিয়ম আয়াত নং ৫৭ এর মধ্যে আল্লাহতায়ালা হযরত ইদ্রিস (আঃ)-কে আকাশে উঠিয়ে নেয়ার প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন  “ওয়া রাফা’না-হু মাক্বানা আলিয়্যা” অর্থাৎ আমি তাঁকে সুউচ্চ স্থানে উঠিয়ে নিয়েছি। মির্যা কাদিয়ানী কর্তৃক স্বীকৃত নবম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ইমাম জালালুদ্দিন (রহঃ) “তাফসীরে জালালাইন” এর মধ্যে সবিস্তারে এ সম্পর্কে লিখেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহতালা ইদ্রিস (আঃ)-কে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করানোর পর তাঁকে ফের জীবন দান করেন। তারপর তাঁকে চতুর্থ /ষষ্ঠ /সপ্তম আকাশে উঠিয়ে নেন।

কাদিয়ানীবন্ধুদের প্রতি প্রশ্ন : 

আপনারা “রাফা’আ” শব্দের রূপক অর্থ ধরে ঈসা (আঃ)-কে আধ্যাত্মিকভাবে উন্নীতকরা অর্থ কিভাবে নিতে পারেন? এটা তো ঈসা (আঃ)-এর শানে মারাত্মক অবমাননার শামিল। কেননা তখন প্রশ্ন আসবে, আল্লাহতালা ইতিপূর্বে ঈসা (আঃ)-কে আধ্যাত্মিকভাবে উন্নীত করা ছাড়াই নবুওত দিয়েছিলেন (নাউজুবিল্লাহ)! অথচ সমস্ত নবী-ই আধ্যাত্মিকভাবে উন্নীত হয়ে তারপরই নবুওতী ওহী লাভ করে থাকেন।

শেষ একটি প্রশ্ন, আচ্ছা নিচের আয়াতগুলোর রফা’আ এর কেমন অর্থ হবে?

উদাহরণ স্বরূপ : (১) আল্লাহতালা ফরমান,
رَفَعَ أَبَوَيْهِ عَلَى الْعَرْشِ অর্থাৎ তিনি (ইউসুফ আঃ) তাঁর পিতা-মাতাকে সিংহাসনের উপর উঠালেন (সুরা ইউসুফ: ১০০)। তো এখানে আপনারা “রাফা’আ” এর অর্থ ‘উন্নীতকরা’ ছেড়ে দেন কেন?

(২) তারপর আরেক স্থানে আছে – وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ الطُّور অর্থাৎ তুর পর্বতকে তোমাদের মাথার উপর উঠিয়ে ধরেছিলাম (সুরা বাকারা: ৬৩)। তো এখানে পাহাড়ের মর্যাদা উন্নীতকরা বুঝাচ্ছেন কি?

(৩) আরেক স্থানে এসেছে – اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ۖ  অর্থাৎ আল্লাহ তিনি যিনি উর্ধ্বদেশে উত্তোলন করেছেন আকাশমন্ডলীকে স্তম্ভ ব্যতীত। (সুরা রা’দ: ২) এ তিনটি আয়াতেও কিন্তু “রাফা’আ” শব্দ আছে! তাই দুনিয়ার সকল নিয়মকে পাশ কেটে এখানেও ‘উন্নীতকরা’ অর্থ নেন দেখি! 

আফসোস! কাদিয়ানী সম্প্রদায় উম্মতে মুহাম্মদিয়া’র সর্ব-সম্মত মতের বিরুদ্ধে গিয়ে এই আয়াত দ্বারাও ঈসা (আঃ)-কে মৃত সাব্যস্ত করতে অপব্যাখ্যা দেয়, যা পুরোপুরি বাতিল।

[৩] সূরা আল মায়েদা/০৫:১১৭

وَاِذْ قَالَ اللّٰهُ يٰعِيْسَى ابْنَ مَرْيَمَ ءَاَنْتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُوْنِىْ وَاُمِّىَ اِلٰهَيْنِ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ‌ؕ قَالَ سُبْحٰنَكَ مَا يَكُوْنُ لِىْۤ اَنْ اَقُوْلَ مَا لَـيْسَ لِىْ بِحَقٍّ‌ؕ اِنْ كُنْتُ قُلْتُهٗ فَقَدْ عَلِمْتَهٗ‌ؕ تَعْلَمُ مَا فِىْ نَفْسِىْ وَلَاۤ اَعْلَمُ مَا فِىْ نَفْسِكَ‌ؕ اِنَّكَ اَنْتَ عَلّٰمُ الْغُيُوْبِ‏

مَا قُلْتُ لَهُمْ اِلَّا مَاۤ اَمَرْتَنِىْ بِهٖۤ اَنِ اعْبُدُوا اللّٰهَ رَبِّىْ وَرَبَّكُمْ‌ۚ وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيْدًا مَّا دُمْتُ فِيْهِمْ‌ۚ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِىْ كُنْتَ اَنْتَ الرَّقِيْبَ عَلَيْهِمْ‌ؕ وَاَنْتَ عَلٰى كُلِّ شَىْءٍ شَهِيْدٌ‏

অর্থ: সে সময়কে স্মরণ কর! যখন (কেয়ামতের দিন) আল্লাহ্ তা’লা ঈসা (আঃ)-কে বলবেন, তুমি কি মানুষকে বলেছিলে যে, আল্লাহ্কে পরিত্যাগ করে আমাকে এবং আমার মাকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ কর। সে (ঈসা) বলবে, যা বলার আমার অধিকার নেই তা আমি কিভাবে বলতে পারি। আর আমি যদি বলতাম, তুমি তা নিশ্চয়ই জানতে। আমার হৃদয়ে কি আছে তা তুমি সম্যক অবগত আর তোমার অন্তরে যা আছে তা আমি জানিনা।

তুমি আমাকে যে আদেশ করেছ, তা ব্যতীত তাদেরকে আমি কিছুই বলিনি। (এবং) তা এই যে, তোমরা আমার ও তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ’র উপাসনা কর। আর যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম, ততদিন আমি ছিলাম তাদের ক্রিয়াকলাপের সাক্ষী। কিন্তু যখন তুমি আমাকে তুলে নিলে, তখন তুমিই তো ছিলে তাদের ক্রিয়াকলাপের পর্যবেক্ষক। আর তুমি সকল বস্তুর উপর সাক্ষী।’

কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যা : এই আয়াতে খোদা তা’লা খ্রিষ্টান জাতির ত্রিত্ববাদে লিপ্ত হওয়ার বিষয়ে হযরত ঈসাকে প্রশ্ন করেছেন। হযরত ঈসা বলছেন, যখন তুমি আমার তাওয়াফ্‌ফা করলে, অর্থাৎ যখন আমায় মৃত্যু দিলে, তখন থেকে তাদের বিষয়ে আমি আর কিছু জানিনা। কুরআন ও হাদীসে সর্বত্র তাওয়াফ্‌ফা শব্দ মৃত্যু বা রূহ কবজ করার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কেউ কেউ মানুষকে প্রতারিত করার জন্য বলে যে, এখানে ‘তাওয়াফফী’ শব্দ উপরে তুলে নেয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; কিন্তু একথা সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন। কথার কথা, যদি আমরা তাদের যুক্তি মেনেও নিই, তবুও এই আয়াত অনুসারে হযরত ঈসা (আঃ) কিয়ামতের পূর্বে আর কখনও পৃথিবীতে আসতে পারেন না; কেননা; কিয়ামতের পূর্বে যদি আসেন তাহলে নিশ্চয় নিজ জাতিকে ত্রিত্ববাদে নিমজ্জিত দেখতে পাবেন। আর এমন পরিস্থিতিতে খোদার সামনে জাতির বিভ্রান্তি সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন না।

ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধন ঃ

এ বাক্যটিকে ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুর দলিল ও আকাশে উত্থিত হওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করার প্রমাণ হিসাবে উপস্থিত করা ঠিক নয়। কেননা, এ কথোপকথন কেয়ামতের দিন হবে। তখন আকাশ থেকে অবতরণের পর তার সত্যিকারের মৃত্যু হবে অতীত বিষয়। আয়াতের পূর্ণ অর্থ হচ্ছে, আপনি যখন আমাকে জীবিত অবস্থায় আসমানে উঠিয়ে নিলেন, তখন আপনিই কেবল তাদের গোপন বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক অবগত। আর আপনি সবকিছুর সাক্ষী। আসমান ও জমিনে কোনো কিছু আপনার কাছে গোপন নেই। (তাফসীরে মুয়াসসার)

পরবর্তী আয়াতসমূহ বিশেষ করে সূরার শেষ পর্যন্ত বিশেষভাবে বনী ইসরাঈলের শেষ নবী ঈসা (আঃ)-এর সাথে আলোচনা ও তার প্রতি বিশেষ অনুগ্রহের কিছু বিবরণ দেয়া হয়েছে। হাশরে তাঁকে একটি বিশেষ প্রশ্ন ও তার উত্তর পরবর্তী আয়াতসমূহে উল্লেখ হয়েছে। এ প্রশ্নোত্তরের সারমর্ম ও বনী ইসরাঈল তথা সমগ্র মানব জাতির সামনে কেয়ামতের ভয়াবহ দৃশ্য তুলে ধরা। এ ময়দানে ঈসা (আঃ)-কে প্রশ্ন করা হবে যে, আপনার উম্মত আপনাকে আল্লাহর অংশীদার সাব্যস্ত করেছে। ঈসা (আঃ) স্বীয় সম্মান, মাহাত্ম্য, নিষ্পাপতা ও নবুওত সত্ত্বেও অস্থির হয়ে আল্লাহর দরবারে সাফাই পেশ করবেন একবার নয়, বার বার বিভিন্ন ভঙ্গিতে প্রকাশ করবেন যে; তিনি উম্মতকে এ শিক্ষা দেননি।

প্রথমে বলবেনঃ “আপনি পবিত্র, আমার কি সাধ্য ছিল যে, আমি এমন কথা বলব, যা বলার অধিকার আমার নেই”? স্বীয় সাফাইয়ের দ্বিতীয় ভঙ্গি এই যে, তিনি স্বয়ং আল্লাহ্ তা’আলাকে সাক্ষী করে বলবেনঃ “যদি আমি এরূপ বলতাম, তবে অবশ্যই আপনার তা জানা থাকত। কেননা, আপনি তো আমার অন্তরের গোপন রহস্য সম্পর্কেও অবগত। কথা ও কর্মেরই কেন, আপনি তো আল্লামুল-গুয়ূব বা যাবতীয় অদৃশ্য বিষয়ে মহাজ্ঞানী”। এ দীর্ঘ ভূমিকার পর ঈসা (সাঃ) প্রশ্নের উত্তর দেবেন এবং বলবেনঃ “আমি তাদেরকে ঐ শিক্ষাই দিয়েছি, যার নির্দেশ আপনি দিয়েছিলেন যে, আল্লাহর দাসত্ব অবলম্বন কর, যিনি আমার আর তোমাদের সকলের পালনকর্তা। এ শিক্ষার পর আমি যত দিন তাদের মধ্যে ছিলাম, ততদিন আমি তাদের কথাবার্তা ও ক্রিয়াকর্মের সাক্ষী ছিলাম, (তখন পর্যন্ত তাদের কেউ এরূপ কথা বলত না) এরপর আপনি যখন আমাকে উঠিয়ে নেন, তখন তারা আপনার দেখাশোনার মধ্যেই ছিল। আপনিই তাদের কথাবার্তা ও ক্রিয়াকর্মের সম্যক সাক্ষী”। (তাফসীরে সা’দী)

এখন একটি প্রশ্ন, ঈসা (আঃ) কিয়ামতের পূর্বে যদি আসেন তাহলে নিশ্চয় নিজ জাতিকে ত্রিত্ববাদে নিমজ্জিত দেখতে পাবেন। আর এমন পরিস্থিতিতে খোদার সামনে জাতির বিভ্রান্তি সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন কিভাবে? 

উত্তর :

প্রথমত, কাদিয়ানীদের উক্ত প্রশ্নটি সম্পূর্ণ চাতুর্যপূর্ণ ও একটি ভুল প্রশ্ন ! ঈসা (আঃ) নিজ জাতী সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করার কোনো কথা-ই আয়াত দ্বারা বুঝা যায় না। তাই এধরণের চটকদার প্রশ্নের আড়ালে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা সহজ হলেও সবাই বিভ্রান্ত হবেনা। তার কারণ, আয়াতের ভাষ্য হল, (আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন ঈসাকে জিজ্ঞেস করবেন) তুমি কি মানুষকে বলেছিলে যে, আল্লাহ্‌কে পরিত্যাগ করে আমাকে এবং আমার মাকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ কর। তখন সে (ঈসা) বলবে, “যা বলার আমার অধিকার নেই তা আমি কিভাবে বলতে পারি।” এখন কাদিয়ানীদের নিকট আমার পাল্টা জিজ্ঞাসা, এখানে ঈসা (আঃ) কিভাবে নিজ জাতীর বিভ্রান্তি সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করলেন? মিথ্যা বলে মানুষকে আর কতভাবে প্রতারিত করবেন? আল্লাহকে ভয় করুন! 

দ্বিতীয়ত, কেয়ামতের দিন হযরত ঈসাকে উক্ত প্রশ্নটি করা হবে দুনিয়াতে তাঁর পুনঃ আগমনের পূর্বেকার ইসরাইলী উম্মতের ভ্রান্তি সম্পর্কে। তিনি প্রত্যুত্তরে বলবেন, “তুমি আমাকে যে আদেশ করেছ, তা ব্যতীত তাদেরকে আমি কিছুই বলিনি।” তবে উনার পুনঃ আগমনের বরকতে আহলে কিতাবি (ইহুদ-খ্রিস্টান) তাঁর মৃত্যুর আগে আগে সবাই মুসলমান হয়ে উম্মতে মুহাম্মদিয়ায় শামিল হয়ে যাবে। যার ফলে উনার আগমনপূর্ব খ্রিস্টান জাতির ভেতর ত্রিত্ববাদের যে ভ্রান্ত মতবাদ চালু ছিল, পরে তা মিটে যাবে। বিশিষ্ট তাফসীরবিদ ও বরেণ্য যুগ ইমাম আল্লামা ইবনে কাসীর (রহঃ) সূরা মায়েদা’র ১১৭ নং আয়াত (অর্থাৎ ফা-লাম্মা তাওয়াফফাইতানী…)’র ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে জারীর (রহঃ) এর উদ্ধৃতিতে লিখেছেন, و كان ذلك حين رفعه إلي السماء الدنيا অর্থাৎ এটি তখনকার ঘটনা যখন তাঁকে দুনিয়ার আকাশে তুলে নেয়া হয়েছিল। (তাফসীরে ইবনে কাসীর দ্রষ্টব্য)। সুতরাং প্রমাণিত হল যে, সূরা মায়েদার ১১৭ নং আয়াত দ্বারা কোনোভাবেই একথা বলা ঠিক হবেনা যে, ঈসা (আঃ) বর্তমানে জীবিত নেই!

এখানে যে কথাটি উল্লেখ করা জুরুরি তা হল, ঈসা (আঃ) জীবিত এই আকীদা বিগত শতাব্দীগুলোর সব মুসলমানের। এইকথা মির্যার পুত্রধন মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ রচিত “হাকিকাতুন নবুওত” বইয়ের ৪৬৩ নং পৃষ্ঠাতে-ও উল্লেখ আছে। মির্যা সাহেবের ৮৩টি বইয়ের সমষ্টি ২৩ খন্ডে মুদ্রিত ‘রূহানী খাযায়েন‘ এর তৃতীয় খন্ডের ৪০০ নং পৃষ্ঠায় লিখা আছে,

মাসীহে মওঊদ আগমনকরার ভবিষ্যৎবাণী প্রথমস্তরের অন্যতম ভবিষ্যৎবাণী। সবাই সম্মিলিতভাবে তা গ্রহণ করেছেন। তার তাওয়াতূরের মর্যাদা অর্জিত হয়েছে।’

তাই যারা এর বিপরীতে আকীদা রাখবে তারা যেন তাওয়াতূর পর্যায়ের আকীদার-ই অস্বীকার করে প্রকারান্তরে ইসলাম থেকেই খারিজ হয়ে গেল। শুনে অবাক হবেন, খোদ মির্যা কাদিয়ানী সাহেব নিজেও একথা আপনা বইতে লিখে গেছেন। যেমন

তিনি ঊর্দূ ভাষায় লিখেছেন :  تواتر كا انكار كرنا گویا اسلام کا انکار کرنا ہے (অর্থাৎ তাওয়াতূর পর্যায়ের কোনো বিষয় অস্বীকার করা যেন ইসলাম অস্বীকার করা)। দেখুন রূহানী খাযায়েন ১৩/২০৬।

আফসোস! কাদিয়ানী সম্প্রদায় উম্মতে মুহাম্মদিয়া’র সর্ব-সম্মত মতের বিরুদ্ধে গিয়ে এই আয়াত দ্বারাও ঈসা (আঃ)-কে মৃত সাব্যস্ত করতে অপব্যাখ্যা দেয়। আল্লাহ তাদের অন্তরের অন্ধত্ব ভাল করে দিন!

[৪] সূরা নিসা/০৪:১৫৯

وَ اِنۡ مِّنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ اِلَّا لَیُؤۡمِنَنَّ بِہٖ قَبۡلَ مَوۡتِہٖ ۚ وَ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ یَکُوۡنُ عَلَیۡہِمۡ شَہِیۡدًا অর্থ: ঐশীগ্রন্থধারীদের প্রত্যেকে তাঁর মৃত্যুর পূর্বে তাঁর (ঈসা) প্রতি ঈমান আনবেই এবং কিয়ামতের দিন তিনি (ঈসা) তাদের ঈমানের উপর সাক্ষী হবেন। 

কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ  (১) এই আয়াতের একটি অর্থ করা যেতে পারে, আহলে কিতাবীদের প্রত্যেকেই অর্থাৎ ইহুদী ও খ্রিষ্টানরা নিজ নিজ মৃত্যুর পূর্বে স্ব-স্ব ধারণানুযায়ী ক্রুশীয় ঘটনার প্রতি ঈমান আনবে। অর্থাৎ ইহুদীরা এই বিশ্বাস নিয়ে মরবে যে, আমরা ঈসাকে ক্রুশে মেরে অভিশপ্ত প্রমাণ করেছি আর খ্রিষ্টানরা এই বিশ্বাস নিয়ে বিদায় নিবে যে, ঈসা (আ.) মানব জাতির পাপ বিমোচনকল্পে ক্রুশে প্রাণ দিয়েছেন।  আবার কেউ কেউ বলে যে, হযরত ঈসা যে জীবিত এই আয়াত হচ্ছে তার প্রমাণ; অর্থাৎ তিনি যখন পৃথিবীতে আসবেন – সমস্ত আহলে কিতাব তাঁর প্রতি ঈমান আনবে। কিন্তু একথা সঠিক নয়, (২) কেননা হাদীসে আছে যে, দাজ্জালের সাথে ৭০,০০০ আহ্‌লে কিতাব যোগ দেবে, আর সে নিজেও আহ্‌লে কিতাবের অন্তর্গত হবে। সে মসীহ্‌র প্রতি ঈমান আনবে না এবং কাফির অবস্থাতেই মারা যাবে। অতএব এ যুক্তি ভ্রান্ত, পক্ষান্তরে এ আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় যে, হযরত ঈসা (আ.) ইন্তেকাল করেছেন। প্রধাণতঃ স্মরণ রাখতে হবে, ইহুদী খ্রিষ্টানদের কাছে হযরত ঈসা (আ.)-এর ক্রুশীয় মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিৎ কোন প্রমাণ নেই। ইহুদীরা বলছে, তিনি অভিশপ্ত হিসেবে মারা গেছেন; আর খ্রিষ্টানরা বলে যে, হযরত ঈসা (আ.) মানুষের মুক্তির জন্য রক্ত দিয়েছেন এবং ক্রুশীয় অভিশপ্ত মৃত্যুকে বরণ করেছেন। অপরদিকে আল্লাহ্‌ বলছেন, না তারা তাঁকে হত্যাও করতে পারেনি আর ক্রুশবিদ্ধ করেও মারতে পারেনি; বরং ঈসার মৃত্যু সম্পর্কে আহ্‌লে কিতাব ঘোরতর সন্দেহে নিপতিত।সকল আহলে  কিতাব নিঃসন্দেহে একমত যে, হযরত ঈসার মৃত্যু সম্পর্কে তাদের নিশ্চিত কোন জ্ঞান নেই। সকল আহ্‌লে কিতাব স্বীয় মৃত্যুর পূর্বে অবশ্যই এ কথার উপর ঈমান আনবে যে, হযরত ঈসার ক্রুশে নিহত হওয়া সম্পর্কে তারা সন্দিহান। তারা তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করেও নিহত করতে পারেনি আর হত্যাও করতে পারেনি; আর যদি এ দু’টোর কোনটিই না হয়, তাহলে তৃতীয়টি অর্থাৎ স্বাভাবিক সম্মানজনক মৃত্যুর উপর ঈমান আনা তাদের জন্য আবশ্যক। আহলে কিতাবের প্রত্যেক ব্যক্তি ঈমান না আনলেও প্রতিনিধিত্বমূলকভাবে হলেও আহ্‌লে কিতাবের প্রত্যেক গোত্রের ঈমান এমনই হবে। এই সত্য কথাটি খোদা তা’লা পবিত্র কুরআনে এভাবে বর্ণনা করেছেন : بَل رَّفَعَهُ اللّٰهُ اِلَيْهِ‌ؕ وَكَانَ اللّٰهُ عَزِيْزًا حَكِيْمًا

ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধন ঃ

(১) আলোচ্য আয়াতে (قبل موته) এর মধ্যে هُ [তার] সর্বনামটি থেকে গুটিকতেক মুফাসসিরের মতে আহলে-কিতাবি (ইহুদ-খ্রিস্টান)কে বুঝানো উদ্দেশ্য। এমতাবস্থায় আয়াতের ব্যাখ্যা এই যে, প্রত্যেক আহলে-কিতাবি নিজেদের অন্তিম মুহূর্তে ঈসা (আঃ)-এর নবুওতের সত্যতা উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনবে।

কিন্তু এই তাফসীর দুই কারণে দুর্বল :

প্রথম কারণ, তাদের সেই অন্তিম-মুহূর্তের ঈমান তাদের আদৌ কোনো উপকারে আসবে না। যেমন নীলনদে ফেরাউন ডুবে মারা যাওয়ার সময় ‘আমানতু বিরাব্বি মূসা ওয়া হারূন’ বলেছিল কিন্তু লাভ হয়নি। পবিত্র কুরআনের সূরা মুমিন এর ৮৫ নং আয়াত ‘ফা-লাম ইয়াকু ইয়ানফায়ুহুম ঈমানুহুম’ দ্বারা-ও একথা প্রমাণিত যে, মানুষের অন্তিম মুহূর্তের ঈমান তাদের কোনো উপকারে আসবেনা। কাজেই এই ঈমান দ্বারা তাদের অন্তিম মুহূর্তের ঈমান বুঝানো হয়েছে মনে করা সঠিক নয়।

আরেকটি কারণ, উল্লিখিত মর্মার্থ সঠিক হলে তখন কুরআনের আয়াত وَ یَکُوۡنُ عَلَیۡہِمۡ شَہِیۡدًا (অর্থাৎ এবং তিনি [ঈসা] তাদের ঈমানের উপর সাক্ষী হবেন) এর কোনো অর্থই থাকেনা! কেননা তখন মর্মার্থ দাঁড়াচ্ছে, ঈসা (আঃ) আহলে-কিতাবিদের মাঝে অনুপস্থিত থেকে-ই তাদের অন্তিম-মুহূর্তের ঈমানের উপর তিনি সাক্ষী হবেন। অথচ এটি ঈসা (আঃ)-এর এই বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিরোধী যে, (তিনি কেয়ামতের দিন বলবেন) ‘যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম ততদিন আমি ছিলাম তাদের ক্রিয়াকলাপের সাক্ষী (কুরআন ০৫ : ১১৭)’। তাই তাদের উক্ত ব্যাখ্যা পবিত্র কুরআনের অপরাপর বক্তব্যের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ হওয়ায় গ্রহণযোগ্য নয়।

দ্বিতীয় ব্যাখ্যা যা রঈসুল মুফাসসিরীন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)সহ অগণিত সাহাবী, তাবেয়ী ও সিংহভাগ মুফাসসির কর্তৃক সমর্থিত, তা হলো موته [তার মৃত্যু] শব্দের সর্বনামে ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এটি-ই সর্বাধিক সঠিক ও গ্রহণযোগ্য তাফসীর। এ মতাবস্থায় আয়াতের অর্থ হবে, যখন তিনি দ্বিতীয়বার দুনিয়াতে অবতরণ করবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করার পর ইসলামের প্রচার ও প্রসার কাজে মগ্ন হবেন এবং ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে যারা তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করবে তাদেরকে নিধন ও নিশ্চিহ্ন করবেন, সর্বত্র ইসলামের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম হবে। অবশিষ্ট আহলে কিতাবরা ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুর আগে আগে-ই তাঁর প্রতি যথাযথ ঈমান আনবে। ঈসা (আঃ) আকাশ থেকে নাযিল হবেন মর্মে সহীহ হাদীস (সনদের সকল বর্ণনাকারী বুখারী ও মুসলিম শরীফের)।

 (ইমাম বায়হাক্বী সংকলিত ‘আল আসমা ওয়াছ ছিফাত‘ ২/৩৩১; হাদীস নং ৮৯৫। হাদীসের মান, সহীহ)  বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন  

এই হাদীস এত অধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তার ফলে তা ‘মুতাওয়াতির’ হাদীসের পর্যায়ভুক্ত। আর এই ‘মুতাওয়াতির’ শুদ্ধ বর্ণনার ভিত্তিতেই আহলে সুন্নাহর সর্বসম্মত আকীদাহ মতে ঈসা (আঃ) আসমানে জীবিত আছেন এবং কিয়ামতের প্রাক্কালে তিনি দুনিয়াতে আসবেন, দাজ্জালকে হত্যা করবেন, সমস্ত ধর্মের অবসান ঘটাবেন, সর্বত্র ইসলামের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করবেন।

(২) ইস্পাহানের ইহুদীরা দাজ্জালের দলভুক্ত হওয়ার ঘটনাটির আগে পরে বহু কথা আছে। সম্পূর্ণ ঘটনাকে পাশ কেটে যে কোনো বক্তব্য-ই অসম্পূর্ণ ও খেয়ানতপূর্ণ। সুন্নাহ এবং ইসলামের ইতিহাস মতে, দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের সূচনা হবে ইস্পাহান (বর্তমানে ইরান) শহরের ইহুদীদের মধ্যে। মুসনাদে আহমদ : ৪১/১৫ দ্রষ্টব্য।  দাজ্জাল তখনো প্রকৃত রূপে নিজেকে প্রকাশ করবেনা। ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া‘ গ্রন্থে ইমাম ইবনে কাসীর লিখেছেন, দাজ্জাল প্রথমে একজন ভাল ও নেককার মানুষের চরিত্রে নিজেকে প্রকাশ করবে। তারপর একজন প্রতাপশালী ও দাম্ভিক বাদশা’র চরিত্রে। তারপর নিজেকে ‘নবী’ দাবী করবে। তারপর নিজেকে ‘প্রভু’ (খোদা) দাবী করবে। বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবু উমামা (রাঃ) হতেও বর্ণিত হয়েছে, দাজ্জাল নিজেকে রব (প্রভু) দাবী করবে। (ইবনে মাজা, হাকেম দ্রঃ)। সুতরাং এ থেকে প্রমাণিত হল যে, দাজ্জাল নিজেও আহলে কিতাবি থাকবেন একথা সঠিক নয়। কেননা, আহলে কিতাবি হলে সে অন্ততপক্ষে নিজেকে খোদা দাবী করত না! সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাকারক ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি (রহঃ) লিখেছেন : فإنه يهلك بعد ظهوره على الأرض كلها إلا مكة والمدينة ، ثم يقصد بيت المقدس فينزل عيسى فيقتله ، أخرجه مسلم أيضا  অর্থাৎ অতপর তাকে (দাজ্জালকে) মক্কা মদীনা ব্যতীত পৃথিবীব্যাপী আত্মপ্রকাশের পর-ই নিধন করা হবে। সে বায়তুল মুকাদ্দাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। তারপর ঈসা (আঃ) নাযিল হবেন। অতপর তাকে তিনি (যুদ্ধক্ষেত্রে লূদ নামক গেইটের প্রান্ত-সীমায়) হত্যা করবেন। মুসলিম শরীফ দ্রষ্টব্য । (ফাতহুল বারীঃ ১৩/৯২)। এ থেকেও বুঝা গেল, ইস্পাহানের সেই সত্তর হাজার (৭০,০০০) ইহুদী দাজ্জালের দলভুক্ত হওয়ার ঘটনা দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের একদম প্রথম দিকের ঘটনা। দাজ্জাল তখন-ও না নিজেকে নবী দাবী করবে আর না খোদা দাবী করবে; কোনোটাই না; এমনকি সেসময় হযরত ঈসা (আঃ)-এর পুনঃআগমন-ও সংঘটিত হওয়ার বাকি থাকবে। তাছাড়া সব আহলে কিতাবি ঈসার নাযিলের দিন-ই এক সাথে দলবদ্ধ হয়ে ঈমান নিয়ে আসবে, এমন কথা কাদিয়ানিরা কোথায় পেল? অথচ হাদীসে এসেছে, ঈসা (আঃ) নাযিল হওয়ার পরে আরো প্রায় ৪০/৪৫ বছর জীবিত থাকবেন। কাজেই কুরআনের বক্তব্য, ক্ববলা মওতিহি (০৪:১৫৯) অর্থাৎ ঈসার মৃত্যুর আগে আগে আহলে কিতাবিদের সবাই তাঁর প্রতি ঈমান আনবে, একথার সাথে কাদিয়ানিরা ইস্পাহানের সত্তর হাজার ইহুদী দাজ্জালের দলভুক্ত হওয়াকে কিভাবে অসংগতিপূর্ণ সাব্যস্ত করে তা আমাদের বোধগম্য নয়। তাদের এইরূপ চাতুর্যপূর্ণ কথাবার্তা আর তাবৎ মিথ্যা থেকে আমরা আল্লাহর নিকট পানাহ চাচ্ছি। আফসোস! কাদিয়ানী সম্প্রদায় উম্মতে মুহাম্মদিয়া’র সর্ব-সম্মত মতের বিরুদ্ধে গিয়ে এই আয়াত দ্বারাও ঈসা (আঃ)-কে মৃত সাব্যস্ত করতে অপব্যাখ্যা দেয়!

[৫] সূরা আল মায়েদা/০৫:৭৫

مَا الۡمَسِیۡحُ ابۡنُ مَرۡیَمَ اِلَّا رَسُوۡلٌ ۚ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِہِ الرُّسُلُ ؕ وَ اُمُّہٗ صِدِّیۡقَۃٌ ؕ کَانَا یَاۡکُلٰنِ الطَّعَامَ ؕ اُنۡظُرۡ کَیۡفَ نُبَیِّنُ لَہُمُ الۡاٰیٰتِ ثُمَّ انۡظُرۡ اَنّٰی یُؤۡفَکُوۡنَ অর্থ: মরিয়ম-তনয় মসীহ তো একজন রসূল মাত্র। তার পূর্বে বহু রসূল গত হয়েছে এবং তার মাতা সত্যনিষ্ঠ ছিল। তারা উভয়ে খাদ্যাহার করত। দেখ, ওদের জন্য আয়াত (বাক্য) কিরূপ বিশদভাবে বর্ণনা করি। আরও দেখ, ওরা কিভাবে সত্য-বিমুখ হয়।

কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ……।

ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধন ঃ

অত্র আয়াতে উল্লিখিত صديقة (সিদ্দীকা) শব্দ দ্বারা মরিয়মকে একজন সত্যবাদিনী ও ওলী বুঝানো উদ্দেশ্য। অর্থাৎ তিনিও ঈসা (আঃ)-এর উপর ঈমান আনয়নকারী এবং তাঁকে সত্যজ্ঞানকারীদের একজন ছিলেন। আর তার অর্থ এ-ও যে, তিনি নবী ছিলেন না। যেমনটি কিছু লোকের ধারণা, যাঁরা মরিয়ম (আঃ)সহ (ইসহাক আঃ-এর জননী) সারাহ এবং মূসা (আঃ)-এর জননীকে নবী ছিলেন বলে মনে করেন। তার প্রমাণে তাঁরা বলেন, প্রথমোক্ত দুই জনের সাথে ফিরিশতাগণের কথোপকথন হয়েছিল। আর মূসা (আঃ)-এর জননীর প্রতি স্বয়ং আল্লাহ ওহী করেছিলেন। তাই উক্ত কথোপকথন এবং ওহী উভয়-ই নবী হওয়ার প্রমাণ!  কিন্তু সর্বসম্মত মুফাসসীর ও বিশেষজ্ঞের নিকট এ প্রমাণ বা দলিল এমন নয় যা কুরআনের স্পষ্ট উক্তির মোকাবেলা করতে পারে। মহান আল্লাহ স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে “আমি যত রসূল পাঠিয়েছি সকলেই পুরুষ ছিলেন। সূরা ইউসুফ (১২:১০৯) দ্রষ্টব্য। সুতরাং উল্লিখিত স্থানগুলোর “ওহী” শব্দটি ‘ইলহাম‘ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে বলেই প্রতীয়মান হল। এখানে আরেকটি কথা বলে রাখি যে, ঈসা (আঃ) আবার যখন আসবেন তখন ইয়াজুজ আর মাজুজ সম্পর্কে আল্লাহ তাঁকে জানিয়ে দিতে মুসলিম শরীফের কিতাবুল ফিতান এর হাদীসে যেই “ওহী” করার উল্লেখ রয়েছে সেই ওহী দ্বারা-ও মূলত এইরূপ ‘ইলহাম’-ই উদ্দেশ্য।

এরপরেও যাদের বুঝে আসেনা তাদের বলব, সূরা মায়েদার ১১১ নং আয়াতটিও দেখুন, আল্লাহতায়ালা ঈসা (আঃ)-এর শিষ্যদের প্রতিও ইলহাম করাকে-ও “ওহী” শব্দে আখ্যা দিয়েছেন। যেমন اَوۡحَیۡتُ اِلَی الۡحَوَارِیّٖنَ (অর্থাৎ আমি হাওয়ারী (শিষ্য)দেরকে এ আদেশ দিয়েছিলাম…)! অর্থাৎ এ সমস্ত “ওহীনবুওতী নয় বরং ইলহামী! সাবধান! কাদিয়ানিরা সহজ এই বিষয়গুলোকেও ঘোলাটে করে সরলমনা মানুষগুলোকে বিভ্রান্ত করে থাকে।তারপর বাকি থাকে ‘ক্বাদ খালাত’ সম্পর্কিত বিষয়। এ বিষয়ে সূরা আলে ইমরান আয়াত নং ১৪৪ এর বিশ্লেষণ থেকে দেখা যেতে পারে।

পরের আয়াত দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, ঈসা (আঃ) এবং মরিয়ম (আঃ) এঁদের দুইজনকে আল্লাহ বা উপাস্য ছিলেন না; বরং তাঁরা উভয়ে মানুষ ছিলেন। যেহেতু পানাহার করা মানুষের দৈহিক চাহিদা ও প্রয়োজনীয় জিনিসের মধ্যে গণ্য। যিনি মা’বুদ বা উপাস্য তিনি এ সবের ঊর্ধ্বে; বরং ঊর্ধ্ব থেকেও ঊর্ধ্বে। তাই কোনোরূপ প্রাসঙ্গিকতার তোয়াক্কা না করে বলা ঠিক হবেনা যে, এই আয়াত-ও আল্লাহ্‌ প্রদত্ত নির্দিষ্টকালপূর্ণ হবার আগেই ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুর প্রমাণ!

[৬] সূরা আম্বিয়া/২১:০৮

وَ مَا جَعَلۡنٰہُمۡ جَسَدًا لَّا یَاۡکُلُوۡنَ الطَّعَامَ وَ مَا کَانُوۡا خٰلِدِیۡنَ অর্থ: আর আমরা তাদেরকে এমন দেহবিশিষ্ট করিনি যে, তারা খাবার গ্রহণ করত না; আর তারা চিরস্থায়ীও ছিল না।

কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ……।

ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধন ঃ

অত্র আয়াত মক্কার মুশরিকদের একখানা প্রশ্নের জবাব মাত্র। তারা বলত যে, এটা কেমন নবী যে, খাওয়া-দাওয়া করেন? আফসোস! কাদিয়ানী সম্প্রদায় আয়াতটির পূর্বাপর আয়াত ও তার প্রাসঙ্গিকতার কোনোই পরোয়া না করেই তৎদ্বারা তালগোল পাকিয়ে হযরত ঈসা (আঃ)-কে বেঁচে নেই প্রমাণ করার চেষ্টা করে! অথচ এখানে মুহাম্মদ (সাঃ) সহ আগের সমস্ত নবীকে মানুষ প্রমাণ করার জন্যই বলা হচ্ছে যে, যত নবী-রাসূলই পাঠিয়েছি তারা সবাই শরীর বিশিষ্ট লোক ছিলেন। তারা খাবার খেতেন। যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আপনার আগে আমরা যে সকল রাসূল পাঠিয়েছি তারা সকলেই তো খাওয়া-দাওয়া করত ও হাটে-বাজারে চলাফেরা করত।” (সূরা আল-ফুরকান ২০) অর্থাৎ তারাও মানুষের মতই মানুষ ছিলেন। তারাও মানুষের মতই খানা-পিনা করতেন। কামাই রোযগার করতে, ব্যবসা করতে বাজারে যেতেন। এটা তাদের কোনো ক্ষতি করেনি। তাদের কোনো মানও কমায়নি। কাফের মুশরিকরা যে ধারণা করে থাকে তা ঠিক নয়। তারা বলত “এ কেমন রাসূল’ যে খাওয়া-দাওয়া করে এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করে; তার কাছে কোনো ফেরেশতা কেন নাযিল করা হল না, যে তার সঙ্গে থাকত সতর্ককারীরূপে? অথবা তার কাছে কোনো ধনভাণ্ডার এসে পড়ল না কেন অথবা তার একটি বাগান নেই কেন যা থেকে সে খেতো? জালিমরা আরো বলে, তোমরা তো এক জাদুগ্ৰস্ত ব্যক্তিরই অনুসরণ করছ। সূরা আল-ফুরকান ৭-৮ দ্রষ্টব্য (তাফসীরে ইবনে কাসীর)। তাই কোনোরূপ প্রাসঙ্গিকতার তোয়াক্কা না করে বলা ঠিক হবেনা যে, এই আয়াত-ও ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুর প্রমাণ!

[৭] সূরা আলে ইমরান/০৩:১৪৪

وَ مَا مُحَمَّدٌ اِلَّا رَسُوۡلٌ ۚ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِہِ الرُّسُلُ ؕ اَفَا۠ئِنۡ مَّاتَ اَوۡ قُتِلَ انۡقَلَبۡتُمۡ عَلٰۤی اَعۡقَابِکُمۡ ؕ وَ مَنۡ یَّنۡقَلِبۡ عَلٰی عَقِبَیۡہِ فَلَنۡ یَّضُرَّ اللّٰہَ شَیۡئًا ؕ وَ سَیَجۡزِی اللّٰہُ الشّٰکِرِیۡنَ অর্থ: মুহাম্মদ রসূল ব্যতীত কিছু নয়, তার পূর্বে বহু রসুল গত হয়ে গেছে। সুতরাং সে যদি মারা যায় অথবা নিহত হয়, তাহলে কি তোমরা পশ্চাদপসরণ করবে? বস্তুতঃ যে পশ্চাদপসরণ করবে, সে কখনও আল্লাহর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আর অচিরেই আল্লাহ কৃতজ্ঞ ব্যক্তিবর্গকে পুরস্কৃত করবেন।

কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ……।

ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধন ঃ

অত্র আয়াত দ্বারা বুঝানো উদ্দেশ্য, ‘মুহাম্মদ একজন রসূল বৈ অন্য কিছুই নয়।’ অর্থাৎ, রিসালাতের গুণে গুণান্বিত হওয়াই তাঁর বড় বৈশিষ্ট্য। তিনি মানব গুণের ঊর্ধ্বে নন এবং এমনও নন যে, তিনি আল্লাহর গুণের কোনো কিছু প্রাপ্ত হয়েছেন ফলে তাঁকে মৃত্যু গ্রাস করবে না। পরের আয়াত মুসলমানদের সতর্ক করার উদ্দেশ্যে। যেহেতু উহুদের যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার কারণসমূহের মধ্যে একটি কারণ এও ছিল যে, কাফেররা রটিয়ে দিয়েছিল, মুহাম্মদ (সাঃ)-কে হত্যা করে দেওয়া হয়েছে। মুসলিমদের কাছে এ খবর পৌঁছলে, তাঁদের অনেকের মনোবল দমে যায় এবং তাঁরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে এই আয়াত দ্বারা এই বলে সতর্ক করে দেয়া হয় যে, কাফেরদের হাতে নবী করীম (সাঃ)-এর হত্যা হওয়া এবং তাঁর উপর মৃত্যু আসা কোনো নতুন কথা নয়। পূর্বের বহু নবীকেই নিহত হতে হয়েছে এবং মৃত্যু তাঁদেরকে গ্রাস করেছে।

উল্লেখ্য, কাদিয়ানিদের বিভ্রান্তির অন্যতম কারণ তারা আয়াতটিতে “আর-রসুল” (الرسل) মানে ‘সমস্ত রাসূল‘ (all messenger) উদ্দেশ্য নেয় যা সঠিক নয়; বরং সঠিক অনুবাদ হচ্ছে ‘বহু রাসূল’ (many messenger)। কেননা, যদি বলা হয় যে, মুহাম্মদ (সাঃ) এর পূর্বে-ই সমস্ত রাসূল গত হইয়া গিয়াছেন, তাহলে মুহাম্মদ-ও যে একজন রাসূল তা বাকি থাকল কোথায়? তাঁকে কি তখন ঠাণ্ডামাথায় অস্বীকার করা হচ্ছেনা? ভাবিয়ে তুলে কিনা? আবার কাদিয়ানিদের বিশ্বাস মতে মির্যা গোলাম আহমদও একজন রাসূল (নাউযুবিল্লাহ)! এবার উক্ত অনুবাদের মাধ্যমে তারা মির্যাকেও ত্যাগ করল কিনা? তাদের নিকট এর আদৌ কোনো সদুত্তর নেই।

যাইহোক নবী করীম (সাঃ)-এর মর্মান্তিক মৃত্যুর সময় উমর (রাঃ) চরম উত্তেজনার শিকার হয়ে তাঁর মৃত্যুকে অস্বীকার করে বসেন আর বলেন, انما رفع الى السماء كما رفع عيسى بن مريم عليهما السلام (অর্থাৎ নিশ্চয়ই উনাকে আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে যেমনিভাবে ঈসা ইবনে মরিয়মকে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে)। ইমাম শাহরাস্তানি রচিত ‘আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল‘ খন্ড নং ৩ পৃষ্ঠা ৯, রূহানী খাযায়েন ১৫/৫৮১ দ্রষ্টব্য।

তারপর আবূ বকর (রাঃ) বড়ই কৌশল অবলম্বন করে রসূল (সাঃ)-এর মিম্বারে দাঁড়িয়ে এই আয়াত তেলাওয়াত করে শোনান। যাতে উমর (রাঃ) প্রভাবিত হন এবং তাঁর অনুভব হয় যে, যেন এই আয়াত এখনই অবতীর্ণ হল। সূক্ষ্মভাবে চিন্তা করলে বুঝা যায়, আয়াতটিও মুহাম্মদ (সাঃ)-কে পূর্ববর্তী নবীগণের ন্যায় একজন মানুষ-ই প্রমাণ করতে পেশ করা হয়েছে। অর্থাৎ মুহাম্মদ মৃত্যুবরণ করায় তোমরা চিন্তায় ভেঙ্গে পড়লে কেন? তিনি তো পূর্বের রাসূলগণের মতই একজন মানুষ রাসূল। ওরা যেমন নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ করে মৃত্যুবরণ করেছেন ঠিক তেমনি নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় মুহাম্মদ-ও মৃত্যুবরণ করেছেন! আফসোস! আফসোস!! কাদিয়ানিরা ভিন্ন প্রসঙ্গের আয়াত দ্বারা আল্লাহ’র সকল নিয়মকে পাশ কেটে ‘ক্বদ খালাত মিন ক্ববলিহির রসুল’ দ্বারা ঈসা (আঃ)-কে মৃত সাব্যস্ত করার চেষ্টা চালায়। অথচ তাদের মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী সে নিজেও ‘ক্বাদ খালাত‘ এর অর্থ করেছেন گزر چکے ہیں (অর্থাৎ গত হয়ে গেছে) রূহানী খাযায়েন খন্ড ৩ পৃষ্ঠা ৫৮৮ দ্রষ্টব্য। 

(স্ক্রীনশটে দেখুন)

কাদিয়ানিদের যদি প্রশ্ন করা হয় যে, ‘ক্বাদ খালাত’ এর মর্মার্থ সবস্থানে মৃত্যু অর্থ হলে তখন সূরা আল-ফাতির এর ২৪ নং আয়াতটির অনুবাদ কেমন হবে? যেমন وَ اِنۡ مِّنۡ اُمَّۃٍ اِلَّا خَلَا فِیۡہَا نَذِیۡرٌ (অর্থাৎ এমন কোনো জাতি নাই যাহার নিকট সতর্ককারী আগমন করে নাই – অনুবাদ, আহমদিয়া অনূদিত কুরআন)। তারপর সূরা বাক্বারা’র ১৪ নং আয়াতে বহুবচনাত্মক ক্রিয়াপদ ‘খালাও’ এর কেমন অর্থ হবে? যেমন وَ اِذَا خَلَوۡا اِلٰی شَیٰطِیۡنِہِمۡ ۙ قَالُوۡۤا اِنَّا مَعَکُمۡ ۙ اِنَّمَا نَحۡنُ مُسۡتَہۡزِءُوۡنَ (অর্থাৎ কিন্তু যখন তাহারা নিজেদের দল-নেতাদের সহিত মিলিত হয়, তাহারা বলে, আমরা নিশ্চয় তোমাদের সঙ্গে আছি; আমরা শুধু উপহাসকারী – অনুবাদ, আহমদিয়া অনূদিত কুরআন)। আফসোস! এরপর তাদের নিকট আর কোনো সদুত্তর থাকেনা।

[৮] সূরা আম্বিয়া/২১:৩৪

وَ مَا جَعَلۡنَا لِبَشَرٍ مِّنۡ قَبۡلِکَ الۡخُلۡدَ ؕ اَفَا۠ئِنۡ مِّتَّ فَہُمُ الۡخٰلِدُوۡنَ অর্থ: আমি তোমার পূর্বে কোনো মানুষকে অনন্ত জীবন দান করিনি; সুতরাং তোমার মৃত্যু হলে তারা কি চিরজীবী হয়ে থাকবে? 

কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ……।

ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধন ঃ

এই আয়াত নাযিল হওয়ার কারণ হচ্ছে, মক্কার কাফেররা নবী (সাঃ)-এর ব্যাপারে বলত যে, সে তো একদিন মারাই যাবে। এ আয়াত তারই উত্তর। আল্লাহ বললেন, মৃত্যু তো প্রত্যেক মানুষের জন্য অবধারিত। মুহাম্মদ (সাঃ)ও এই নিয়ম-বহির্ভূত নয়। কারণ সেও একজন মানুষ। আর আমি কোনো মানুষকে অমরত্ব দান করিনি। কিন্তু যারা এ কথা বলে তারা কি মরবে না? এ হতে মুশরিকদের মতবাদেরও খন্ডন হয়ে যায়; যারা দেবতা, আম্বিয়া ও আওলিয়াগণের চিরজীবী থাকার ধারণা পোষণ করে থাকে। আর সেই ভিত্তিতেই তারা তাঁদেরকে নিজেদের সাহায্যকারী ও উদ্ধারকারী মনে করে। এই আয়াত দ্বারা ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যু প্রমাণ করা চরম পর্যায়ের মূর্খতা! কেননা কোনো মুসলমান-ই মনে করেনা যে, আল্লাহ ঈসা (আঃ)-কে অমরত্ব দান করেছেন। বরং সবাই বিশ্বাস করেন তিনি অবশ্যই এক সময় মৃত্যুবরণ করবেন। তাই কোনোরূপ প্রাসঙ্গিকতার তোয়াক্কা না করে বলা ঠিক হবেনা যে, এই আয়াত-ও ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুর প্রমাণ!

[৯] সূরা বাক্বারা/০২:১৩৪

تِلۡکَ اُمَّۃٌ قَدۡ خَلَتۡ ۚ لَہَا مَا کَسَبَتۡ وَ لَکُمۡ مَّا کَسَبۡتُمۡ ۚ وَ لَا تُسۡـَٔلُوۡنَ عَمَّا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ অর্থ: সেই উম্মত (দল) গত হয়ে গেছে; তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের; তোমরা যা অর্জন করেছ তা তোমাদের। আর তারা যা করত, সে সম্বন্ধে তোমাদেরকে কোনো প্রশ্ন করা হবে না। 

কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ ……।

ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধন ঃ

উক্ত আয়াতের আগের এবং পরের আয়াত দেখলে বুঝা যায়, এখানে এ কথাগুলো ইয়াহুদীদের উদ্দেশ্যে ছিল। তাদেরকে বলা হচ্ছে যে, তোমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে যারা আম্বিয়া ও সৎলোক ছিলেন, তাঁদের সাথে সম্পর্ক জুড়ে তোমাদের কোনো লাভ নেই। তাঁরা যা কিছু করেছেন, তার ফল তাঁরাই পাবেন, তোমরা পাবে না। আর তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের ফল পাবে। এ থেকে জানা যায় যে, পূর্বপুরুষদের নেকীর উপর ভরসা করা ভুল। আসল জিনিস হল ঈমান ও নেক আমল। পূর্বের পুণ্যবান ব্যক্তিদের এটাই ছিল পুঁজি এবং কিয়ামত পর্যন্ত আগত মানুষের মুক্তির একমাত্র ওসীলা বা মাধ্যমও এটাই। সুতরাং প্রাসঙ্গিকতার বিচারে চিন্তা করে বলা যায়, এই আয়াত দ্বারা হযরত ঈসা (আঃ)-কে মৃত সাব্যস্ত করা চরম পর্যায়ের মূর্খতা বৈ কি?  (বাকিয়াংশ পড়তে ক্লিক করুন)

দ্বিতীয় ভাগ Click 

তৃতীয় ভাগ Click

Share.

২ Comments

  1. আমার এ সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই তবে কাদিয়ানিরা বলে থাকেন ঈসা আঃ যে আকাশে গেছে জীবিত এর অর্থাৎ জীবিত,আকাশ এর কোন আরবি শব্দ নেই (সুরা নিসা ১৫৭ ) আর আল্লাহ তো আকাশে নয় বরং সর্বত্র থাকে !
    এর উত্তর কি হবে?

    • “আকাশ” শব্দ কুরানে নেই তো কী হয়েছে, সহীহ হাদীসগুলোতে তো আছে। হাদীস হচ্ছে কুরানের ব্যাখ্যা সেকথা কি কেউ অস্বীকার করতে পারে? নিশ্চয় না।

      আর আল্লাহ যে সর্বত্রে হাজির এর ব্যাখ্যায় ইমাম মালেক রহ:বলেছেন, তার দ্বারা উদ্দেশ্য হল, আল্লাহ’র ইলম সব কিছুকে বেষ্টন করে রেখেছে।

Leave A Reply

indobokep borneowebhosting video bokep indonesia videongentot bokeper entotin videomesum bokepindonesia informasiku videopornoindonesia bigohot