indobokep borneowebhosting video bokep indonesia videongentot bokeper entotin videomesum bokepindonesia informasiku videopornoindonesia bigohot

ত্রিশ আয়াতের ভুল ব্যাখ্যার খন্ডন (২)

0

দ্বিতীয় ভাগ

[১০] সূরা মরিয়ম/১৯:৩১

وَّ جَعَلَنِیۡ مُبٰرَکًا اَیۡنَ مَا کُنۡتُ ۪ وَ اَوۡصٰنِیۡ بِالصَّلٰوۃِ وَ الزَّکٰوۃِ مَا دُمۡتُ حَیًّا অর্থ: ‘যেখানেই আমি থাকি না কেন, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন, তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যতদিন জীবিত থাকি ততদিন সালাত ও যাকাত আদায় করতে।

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ …..।
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধনঃ

এখানে বরকতের মূল কথা হচ্ছে, আল্লাহর দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখা। কারও কারও মতে, বরকত অর্থ, সম্মান ও প্রতিপত্তিতে বৃদ্ধি। অর্থাৎ আল্লাহ আমার সব বিষয়ে প্রবৃদ্ধি ও সফলতা দিয়েছেন। কারও কারও মতে বরকত অর্থ, মানুষের জন্য কল্যাণকর হওয়া। কেউ কেউ বলেন, কল্যাণের শিক্ষক। কারও কারও মতে, সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ। (ফাতহুল কাদীর, আল্লামা শাওক্বানী)। বস্তুত: ঈসা (আঃ)-এর পক্ষে সবগুলো অর্থই সম্ভব। পরের আয়াতের ভাষ্যমতে, হযরত ঈসা (আঃ) বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা আমাকে সালাত ও যাকাতের ওসিয়ত করেছেন। তাই এর তাৎপর্য এই যে, খুব তাগিদ সহকারে আল্লাহ আমাকে উভয় কাজের নির্দেশ দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হল, হযরত ঈসা (আঃ) তো বর্তমানে আকাশে জীবিত রয়েছেন। তিনি সেখানে সালাত এবং যাকাতের ওসিয়ত পালন করছেন কিনা? কাদিয়ানী সম্প্রদায় এধরণের প্রশ্নের পিছু নিয়ে ঈসা (আঃ)-কে আকাশে উঠিয়ে নেয়া এবং তাঁর বেঁচে থাকা ঠিক নয় বলে যুক্তি দিতে চায়। তাই এর জবাব দুইভাবে দেয়া হবে।

প্রথমত, তাদের কাদিয়ানের নবুওত দাবিদার মির্যা গোলাম আহমদ সাহেব হযরত মূসা (আঃ) সম্পর্কে লিখে গেছেন : هذا هو موسى فتى الله الذى أشار الله فى كتابه الى حياته و فرض علينا أن نؤمن بانه حي فى السماء و لم يمت و ليس من الميتين  অর্থাৎ এই সেই আল্লাহ’র নওজোয়ান মূসা যার হায়াতের প্রতি তিনি তাঁর কিতাবে ইংগিত করেছেন। আমাদের উপর ফরজ আকাশে তাঁর জীবিত থাকার প্রতি বিশ্বাস রাখা। সে মৃত্যুবরণ করেনি এবং সে মৃতদের অন্তর্ভুক্তও নন। (দেখুন, মির্যার রচিত ‘নূরুল হক‘ পৃষ্ঠা নং ৫০; রূহানী খাযায়েন খন্ড নং ৮ পৃষ্ঠা নং ৬৯-৭০)।  (স্ক্রিনশট দ্রঃ)।

তাই মির্যার অনুসারীদের প্রতি আমাদের-ও একই প্রশ্ন যে, মূসা (আঃ) তিনিও আকাশে সালাত আর যাকাত কিভাবে পালন করছেন? কেননা সহীহ বুখারী’র একটি হাদীসে আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে : الانبياء اخوة لعلات امهاتهم شتى و دينهم واحد অর্থাৎ নবীগণ সকলে বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ন্যায়। তাদের মা ভিন্ন তবে দ্বীন এক ও অভিন্ন। (তারীখে দিমাস্ক লি-ইবনে আসাকীর, হাদীস নং ৫১০৪৮)। এখন সমস্ত নবীর দ্বীন যেহেতু এক ও অভিন্ন সেহেতু আকাশে মূসা (আঃ)-এর জন্যও সালাত এবং যাকাতের অভিন্ন নির্দেশনা থাকা-ই স্বাভাবিক নয় কি? নতুবা সমস্ত নবীর ‘দ্বীন এক ও অভিন্ন‘ এ কথার কী অর্থ? সত্যি বলতে, কাদিয়ানিদের নিকট এর কোনো সদুত্তর নেই।

(খ) তারপরের জবাব এই যে, ঈসা (আঃ) এর প্রতি সালাত এবং যাকাতের উল্লিখিত ওসিয়ত পার্থিব জীবনের সাথে-ই সম্পর্কিত। তাই তাদের উল্লিখিত প্রশ্ন পুরোই অযুক্তিক। তার প্রমাণ ‘সুনানু তিরমিযী শরীফ‘ থেকে এভাবে পাওয়া যায় যে, হাদীসে এসেছে হযরত জাবের (রাঃ) এর পিতাকে আল্লাহতায়ালা তার শাহাদাতবরণের পর পুনঃবার জীবিত করে বলেছিলেন ‘তুমি আমার নিকট কিছু চাও!’ প্রত্যুত্তরে তিনি বলেছিলেন, “আমাকে দ্বিতীয়বার জীবিত করে দাও। যাতে তোমার রাহে পুনঃবার নিহত হতে পারি।” চিন্তা করলে যে কেউই বুঝতে পারবে যে, হযরত জাবেরের পিতা পুনঃজীবনের কামনা করে মূলত পার্থিব জীবন-ই চেয়েছিলেন! কেননা, আল্লাহর রাহে শাহাদাতবরণের যোগ্যতা শুধুমাত্র পার্থিব জীবনে-ই রয়েছে! এ থেকেই বুঝা যাচ্ছে যে, ঈসা (আঃ) এর প্রতিও সালাত আর যাকাতের ওসিয়ত পালনের হুকুম শুধুমাত্র পার্থিব জীবনের সাথেই সম্পর্কিত। কেননা সালাত আর যাকাত পালনের কোনো যোগ্যতা-ই আকাশে নেই। উদাহরণ স্বরূপ, আকাশে সময় গতিশীল নয়, বরং সেখানে সবকিছু-ই স্থির। তাই সালাতের নির্ধারিত সময়-ও সেখানে অনুপস্থিত। অনুরূপ যাকাতের ওসিয়ত পালন করতে হলে ঈসা (আঃ)-কে সর্বপ্রথম নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হবে এবং সেই সম্পদের উপর পূর্ণ এক বছর অতিক্রান্ত হতে হবে, ইত্যাদি। তাই কাদিয়ানিদের উচিত হবে, তারা আগে প্রমাণ করুক যে, ঈসা (আঃ) আকাশে থাকা অবস্থায়-ও নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়ে আছেন আর সেই সম্পদের উপর পূর্ণ এক বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে! সুতরাং যখনি প্রমাণিত হল যে, সালাত আর যাকাত পালনের কোনো যোগ্যতা-ই আকাশে নেই তখন এদের এ সমস্ত প্রশ্ন-ও পুরোপুরি পরিত্যাজ্য। তাই কোনোরূপ প্রাসঙ্গিকতার তোয়াক্কা না করে বলা ঠিক হবেনা যে, এই আয়াত-ও ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুর প্রমাণ!

[১১] সূরা মরিয়ম/১৯:৩৩

وَ السَّلٰمُ عَلَیَّ یَوۡمَ وُلِدۡتُّ وَ یَوۡمَ اَمُوۡتُ وَ یَوۡمَ اُبۡعَثُ حَیًّا অর্থ: ‘আমার প্রতি শান্তি যেদিন আমি জন্ম লাভ করেছি, যেদিন আমার মৃত্যু হবে এবং যেদিন জীবিত অবস্থায় আমি উত্থিত হব।

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ. ….. ।
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধনঃ

আয়াতের ভাষ্যমতে, জন্মের সময় আমাকে শয়তান স্পর্শ করতে পারে নি। সুতরাং আমি (ঈসা) নিরাপদ ছিলাম। উল্লেখ্য, মরিয়ম (আঃ) আল্লাহর নিকট শয়তানের স্পর্শ থেকে নিরাপত্তা চেয়ে ফরিয়াদ করায় আল্লাহ বিশেষভাবে তাঁর উক্ত দোয়া কবুল করেন। তাই এর অর্থ এই নয় যে, যারা এরকম দোয়া করেনি শয়তান তাদেরকে অবশ্যই স্পর্শ করবে! তারপর ঈসা (আঃ) বললেন, অনুরূপভাবে মৃত্যুর সময় ও পুনরুত্থানের সময়ও (শয়তান) আমাকে পথভ্রষ্ট করতে পারবে না। অথবা আয়াতের অর্থ, সালাম ও সম্ভাষণ জানানো। (ফাতহুল কাদীর)। ইমাম ইবনে কাসীর বলেন, ঈসা (আঃ) মূলত এই কথাগুলোর মাধ্যমে খ্রিষ্টানদের ত্রিত্ববাদী মতবাদের খন্ডন করে নিজেকে তাঁর বান্দা হওয়ার ঘোষণা দিতে চেয়েছিলেন। তিনি জানাচ্ছেন যে, তিনি আল্লাহর সৃষ্ট বান্দাদের মধ্য হতে একজন। অন্যান্য সৃষ্টির মত তিনিও জীবন ও মৃত্যুর অধীন। অনুরূপভাবে অন্যদের মত তিনিও পুনরুত্থিত হবেন। তবে তার জন্য এ কঠিন তিনটি অবস্থাতেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। (তাফসীরে ইবনে কাসীর)। আফসোস! কাদিয়ানিরা আয়াতের প্রসঙ্গ গোপন রেখে উদ্দেশ্যমূলক মতবাদের তরফদারি করতে অহর্নিশি প্রোপাগান্ডা চালায়। আল্লাহ তাদের অন্তরের অন্ধত্ব ভাল করে দিন।

[১২] সূরা হজ্জ্ব/২২:০৫

یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اِنۡ کُنۡتُمۡ فِیۡ رَیۡبٍ مِّنَ الۡبَعۡثِ فَاِنَّا خَلَقۡنٰکُمۡ مِّنۡ تُرَابٍ ثُمَّ مِنۡ نُّطۡفَۃٍ ثُمَّ مِنۡ عَلَقَۃٍ ثُمَّ مِنۡ مُّضۡغَۃٍ مُّخَلَّقَۃٍ وَّ غَیۡرِ مُخَلَّقَۃٍ لِّنُبَیِّنَ لَکُمۡ ؕ وَ نُقِرُّ فِی الۡاَرۡحَامِ مَا نَشَآءُ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ثُمَّ نُخۡرِجُکُمۡ طِفۡلًا ثُمَّ لِتَبۡلُغُوۡۤا اَشُدَّکُمۡ ۚ وَ مِنۡکُمۡ مَّنۡ یُّتَوَفّٰی وَ مِنۡکُمۡ مَّنۡ یُّرَدُّ اِلٰۤی اَرۡذَلِ الۡعُمُرِ لِکَیۡلَا یَعۡلَمَ مِنۡۢ بَعۡدِ عِلۡمٍ شَیۡئًا ؕ وَ تَرَی الۡاَرۡضَ ہَامِدَۃً فَاِذَاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡہَا الۡمَآءَ اہۡتَزَّتۡ وَ رَبَتۡ وَ اَنۡۢبَتَتۡ مِنۡ کُلِّ زَوۡجٍۭ بَہِیۡجٍ  অর্থ: হে মানুষ! পুনরুত্থান সম্বন্ধে যদি তোমাদের সন্দেহ হয়, তাহলে (ভেবে দেখ যে,) আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি মাটি হতে, তারপর বীর্য হতে, তারপর রক্তপিন্ড হতে, তারপর পূর্ণাকৃতি বা অপূর্ণাকৃতি গোশতপিন্ড হতে, যাতে আমি তোমাদের নিকট (আমার সৃজনশক্তির মহিমা) ব্যক্ত করি। আমার ইচ্ছা অনুযায়ী তা এক নির্দিষ্ট কালের জন্য মাতৃগর্ভে স্থিত রাখি। তারপর আমি তোমাদেরকে শিশুরূপে বের করি; পরে যাতে তোমরা পরিণত বয়সে উপনীত হও। তোমাদের মধ্যে কারো কারো মৃত্যু ঘটানো হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকেও প্রত্যাবৃত্ত করা হয় অকর্মণ্য (স্থবিরতার) বয়সে; যার ফলে সে যা কিছু জানত, সে সম্বন্ধেও সজ্ঞান থাকে না। আর তুমি ভূমিকে দেখ শুষ্ক, অতঃপর তাতে আমি বৃষ্টি বর্ষণ করলে তা শস্য-শ্যামল হয়ে আন্দোলিত ও স্ফীত হয় এবং উদগত করে সর্বপ্রকার নয়নাভিরাম উদ্ভিদ।

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ……।
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধনঃ

আয়াতগুলোর তাৎপর্য যথাক্রমে এই যে, বীর্য থেকে চল্লিশ দিন পর জমাট রক্তে ও তা থেকে গোশতপিন্ডে পরিণত হয়। مُخَلَّقَة (পূর্ণাকৃতি) বলতে এমন ভ্রূণকে বুঝানো হয়েছে যার আকার-আকৃতি পরিপূর্ণ ও স্পষ্ট। এ রকম ভ্রূণের মধ্যে রূহ (আত্মা) ফুঁকে দেয়া হয়। আর غَير مُخَلَّقَة তথা অপূর্ণাকৃতি ভ্রূণ এমন যার আকার-আকৃতি পূর্ণতা লাভ করে না এবং তাতে রূহও ফুঁকা হয় না। বরং সময়ের আগেই তা গর্ভচ্যূত হয়ে যায়। সহীহ হাদীসসমূহেও গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের এই সকল সৃষ্টি-পর্যায়ের কথা উল্লেখ হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, এইভাবেই আমি আমার সৃষ্টিশক্তির নিপুণতা ও মহিমা তোমাদের জন্য প্রকাশ করি। (বিস্তারিত জানার জন্য ইবনে কাসীর দ্রঃ)। সে যাইহোক, আয়াতগুলো দ্বারা পার্থিক জীবনে মানুষের সৃষ্টির সূচনা ও শারিরীক হ্রাস বৃদ্ধির সাধারণ নিয়ম সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।কিন্তু কাদিয়ানিরা এই আয়াতগুলো দিয়ে ঈসা (আঃ) বেঁচে না থাকার পক্ষে কিভাবে দলিল বানায় তা আমাদের বোধগম্য নয়।

[১৩] সূরা বাক্বারা/০২:৩৬

فَاَزَلَّہُمَا الشَّیۡطٰنُ عَنۡہَا فَاَخۡرَجَہُمَا مِمَّا کَانَا فِیۡہِ ۪ وَ قُلۡنَا اہۡبِطُوۡا بَعۡضُکُمۡ لِبَعۡضٍ عَدُوٌّ ۚ وَ لَکُمۡ فِی الۡاَرۡضِ مُسۡتَقَرٌّ وَّ مَتَاعٌ اِلٰی حِیۡنٍ অর্থ: কিন্তু শয়তান তা হতে তাদের পদস্খলন ঘটাল এবং তারা যেখানে ছিল সেখান থেকে তাদেরকে বহিষ্কার করল। আমি বললাম, ‘তোমরা (এখান হতে) নেমে যাও। তোমরা একে অন্যের শত্রু। পৃথিবীতে কিছুকালের জন্য তোমাদের অবস্থান ও জীবিকা রইল।

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ……।
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধনঃ 

উক্ত আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য, শয়তান তাঁদের দুইজনকে জান্নাতে পদস্খলিত করেছিল। কিন্তু তাঁদেরকে ঠিক কী পন্থায় পদস্খলিত করেছিল, এ ব্যাপারে কোনো পরিষ্কার বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে এ কথা পরিষ্কার যে, যেভাবে সিজদা করার নির্দেশের সময় আল্লাহ’র আদেশের মোকাবেলায় সে কিয়াস (আমি আদম থেকে উত্তম এই অনুমান) করে সিজদা করতে অস্বীকার করেছিল, অনুরূপ এই সময় আল্লাহর নির্দেশ “তোমরা এই গাছের কাছে যাবে না” এর তা’বীল (অপব্যাখ্যা) করে আদম (আঃ)-কে চক্রান্তে ফাঁসাতে সে সফল হয়। এর বিস্তারিত বিবরণের জন্য সূরা আ’রাফ ৭:১৯ নং আয়াত দ্রষ্টব্য। আল্লাহ’র নির্দেশের মোকাবেলায় অনুমান এবং কুরআন ও হাদীসের স্পষ্ট উক্তির অপব্যাখ্যা সর্বপ্রথম শয়তানই করেছিল। কিন্তু কাদিয়ানিরা ঈসা (আঃ) বেঁচে না থাকার পক্ষে একেও কিভাবে দলিল বানায় তা আমাদের বোধগম্য নয়।

[১৪] সূরা ইয়াসিন/৩৬:৬৮

وَ مَنۡ نُّعَمِّرۡہُ نُنَکِّسۡہُ فِی الۡخَلۡقِ ؕ اَفَلَا یَعۡقِلُوۡنَ অর্থ: আমি যাকে দীর্ঘ জীবন দান করি, তাকে তো জরাগ্রস্ত করে দিই।[১] তবুও কি ওরা বোঝে না?

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ……।
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধনঃ 

এ আয়াতে বুঝানো হয়েছে, আমি যাকে বেশি আয়ু দান করি, তার দৈহিক অবস্থা পরিবর্তন করে পুরো তার উল্টা অবস্থা করে দিই। অর্থাৎ সে যখন বাচ্চা থাকে, তখন তার বাড়-বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে এবং তার বুঝশক্তি ও দৈহিক শক্তিতে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এইভাবে সে যুবক ও প্রৌঢ় অবস্থায় পৌঁছে। তারপর এর বিপরীত তার বুঝশক্তি ও দৈহিক শক্তি ক্রমে ক্রমে দুর্বল হতে থাকে; এমনকি পরিশেষে সে একটি শিশুর ন্যায় হয়ে যায়। এই আয়াত দ্বারা পার্থিক জীবনে মানুষের শারিরীক হ্রাস বৃদ্ধির সাধারণ নিয়ম সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। কিন্তু ঈসা (আঃ) যতক্ষণ না এই পার্থিব জীবনে কেয়ামতের আগে দ্বিতীয়বার ফিরে আসছেন ততক্ষণ তাঁকে প্রকৃতির উক্ত নিয়মের উর্ধ্বে-ই বিবেচনা করতে হবে। কারণ নশ্বর এই পৃথিবীর জীবন আর ঐশী জীবন কখনো এক হতে পারেনা। তাই কোনোরূপ প্রাসঙ্গিকতার তোয়াক্কা না করে বলা ঠিক হবেনা যে, এই আয়াত-ও ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুর প্রমাণ!

এখানে যেহেতু শুধুমাত্র কাদিয়ানিদের ভুল ব্যাখ্যার খন্ডন নিয়েই লিখতে চাচ্ছিলাম সেহেতু পবিত্র কুরআনে ঈসা (আঃ) এর দ্বিতীয়বারে আগমন করার কোনো ইংগিত আছে কি না সেদিকে এই মুহূর্তে যেতে চাইনি। তথাপি পাঠককে সামান্য আশ্বস্ত করতেই শুধু এটুকু বলব, খোদ মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী সাহেব-ও ১৮৮৩ সালে তার কথিত ইলহামী পুস্তক “বারাহিনে আহমদিয়া” এর চতুর্থ খন্ডের ৪৯৯ নং পৃষ্ঠায় ঈসা (আঃ) এর দ্বিতীয় আগমনের উপর দলিল স্বরূপ সূরা তওবা এর ৩৩ নং আয়াতকে উল্লেখ করে লিখেছেন,

  • “ঈসা (আঃ) এর দ্বিতীয়বারে আগমন করা এবং তাঁর মাধ্যমে ইসলাম সমগ্র দুনিয়ায় প্রচার-প্রসার লাভ করার প্রতিশ্রুতিতে ফোরকানী [কুরআনী] ইশারা এই আয়াতে রয়েছে”। (রূহানী খাযায়েন ১/৫৯৩ এর স্ক্রিনশট দ্রঃ) 

তারপর চলুন মির্যা কাদিয়ানী কর্তৃক স্বীকৃত যুগ ইমাম, মুজাদ্দিদ ও মুফাসসিরের কিতাব থেকেও দেখে নিই। এমনি একজন মুজাদ্দিদ কর্তৃক রচিত “তাফসীরে তাবারী”। এতে পবিত্র কুরআনের সূরা মায়েদার ১১০ নং আয়াত (و يكلم الناس فى المهد و كهلا)’র ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে জারী’র আত তাবারী (রহঃ) লিখেছেন :

  • আমাকে ইউনুছ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাকে ইবনে ওহাব বলেছেন, তিনি বলেন আমি ইবনে যায়েদ থেকে শুনেছি তিনি বলেন, আল্লাহতালার এই কথার অর্থ হল قد كلمهم عيسى في المهد و سيكلمهم إذا قتل الدجال و هو يومئذٍ كهل (অর্থাৎ ঈসা (আঃ) দোলনাতে মানুষের সাথে কথা বলবেন, [তেমনিভাবে] তিনি অচিরেই মানুষের সাথে কথা বলবেন যখন দাজ্জালকে হত্যা করবেন আর তখন তিনি প্রৌঢ় বয়সে পরিণত হবেন।” তাফসীরে তাবারী দ্রষ্টব্য।

এই একই তাফসীর রয়েছে ইমাম ফখরুদ্দীন রাজী (রহঃ) রচিত “তাফসীরে কাবীর” এর মধ্যে। তিনি হিজরী তৃতীয় শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ তাফসীরকারক ইমাম হুসাইন ইবনে ফদ্বল আল বাজালী (রহঃ) [মৃত : ২৮২ হিজরী] এর উদ্ধৃতিতে লিখেছেন: أن المراد بقوله و كهلا ان يكون كهلا بعد ان ينزل من السماء في آخر الزمان و يكلم الناس و يقتل الدجال الخ অর্থাৎ আয়াতের উদ্দেশ্য হল, ঈসা (আঃ) তিনি শেষ যামানাতে আকাশ থেকে অবতরণকরার পরে প্রৌঢ় হওয়া। (তখন) তিনি মানুষের সাথে (প্রৌঢ় লোকদের মত জ্ঞানীসূলভ, মেধা সম্পন্ন প্রাঞ্জল ও বিশুদ্ধভাবে) কথা বলবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন। তিনি বলেন, এই আয়াতে ঈসা (আঃ) পৃথিবীতে অচিরেই নাযিল হওয়ার ব্যাপারে নস তথা প্রমাণ রয়েছে। ইমাম রাজী রচিত, তাফসীরে কাবীর দ্রষ্টব্য। আল্লাহ তুমি কাদিয়ানিদের অন্তরের অন্ধত্ব ভাল করে দাও। আমীন।

[১৫] সূরা রূম/৩০:৫৪

اَللّٰہُ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ مِّنۡ ضُؔعۡفٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنۡۢ بَعۡدِ ضُؔعۡفٍ قُوَّۃً ثُمَّ جَعَلَ مِنۡۢ بَعۡدِ قُوَّۃٍ ضُؔعۡفًا وَّ شَیۡبَۃً ؕ یَخۡلُقُ مَا یَشَآءُ ۚ وَ ہُوَ الۡعَلِیۡمُ الۡقَدِیۡرُ অর্থ: আল্লাহ্ তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেন দুর্বলতা থেকে, দুর্বলতার পর তিনি দেন শক্তি; শক্তির পর আবার দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছে সৃষ্টি করেন এবং তিনিই সর্বজ্ঞ, সর্বক্ষম।

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ……। 
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধনঃ

আয়াতটির ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর শিষ্য তাবেয়ী হযরত কাতাদাহ (রহঃ) বলেন, প্রথম দুর্বলতা হচ্ছে শুক্র আর শেষ দুর্বলতা হচ্ছে বৃদ্ধ বয়স যখন তার চুল সাদা হয়ে যেতে থাকে। (তাফসীরে তাবারী)। আল্লামা শানকীতী বলেন : আল্লাহ তা’আলা প্রথম দুর্বলতা ও শেষ দুর্বলতা উভয়টির কথাই কুরআনের অন্যত্র বর্ণনা করেছেন। যেমন প্রথম দুর্বলতা সম্পর্কে বলেন, “আমরা কি তোমাদেরকে তুচ্ছ পানি হতে সৃষ্টি করিনি?” (সূরা আল-মুরসালাত ২০)। “মানুষ কি দেখে না যে, আমরা তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্রবিন্দু থেকে? অথচ পরে সে হয়ে পড়ে প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী।” (সূরা ইয়াসীন ৭৭) “অতএব মানুষ যেন চিন্তা করে দেখে তাকে কী থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে! তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সবেগে স্থলিত পানি হতে”। (সূরা আত-তারেক: ৫-৬)

আর দ্বিতীয় দুর্বলতা সম্পর্কে বলেন, “আর আল্লাহ-ই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে প্রত্যাবর্তিত করা হবে নিকৃষ্টতম বয়সে; যাতে জ্ঞান লাভের পরেও তার সবকিছু অজানা হয়ে যায়।” (সূরা আন-নাহল ৭০) “আর আমরা যা ইচ্ছে তা এক নির্দিষ্ট কালের জন্য মাতৃগর্ভে স্থিত রাখি, তারপর আমরা তোমাদেরকে শিশুরূপে বের করি, পরে যাতে তোমরা পরিণত বয়সে উপনীত হও। তোমাদের মধ্যে কারো কারো মৃত্যু ঘটান হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে কাউকে হীনতম বয়সে প্রত্যাবর্তিত করা হয়, যার ফলে সে জানার পরেও যেন কিছুই (আর) জানে না।” (সূরা আল-হাজ: ৫)। এ সমস্ত আয়াতে পার্থিব জীবনের সাধারণ নিয়মের কথা-ই বলা হয়েছে। যার সাথে ঐশী জীবন-ব্যবস্থার কোনো সম্পর্কই নেই। তাই ঈসা (আঃ) আবার তখন পার্থিব জীবনে ফিরে আসবেন তখনি শুধু পার্থিব জীবনের উক্ত নিয়মসমূহ তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। যেজন্য আয়াতের প্রাসঙ্গিকতার বিচারে বলতে পারি, কাদিয়ানিদের ধারণা করা ঠিক হবেনা যে, এই আয়াত-ও ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুর প্রমাণ!

[১৬] সূরা ইউনুস/১০:২৪

اِنَّمَا مَثَلُ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا کَمَآءٍ اَنۡزَلۡنٰہُ مِنَ السَّمَآءِ فَاخۡتَلَطَ بِہٖ نَبَاتُ الۡاَرۡضِ مِمَّا یَاۡکُلُ النَّاسُ وَ الۡاَنۡعَامُ ؕ حَتّٰۤی اِذَاۤ اَخَذَتِ الۡاَرۡضُ زُخۡرُفَہَا وَ ازَّیَّنَتۡ وَ ظَنَّ اَہۡلُہَاۤ اَنَّہُمۡ قٰدِرُوۡنَ عَلَیۡہَاۤ ۙ اَتٰہَاۤ اَمۡرُنَا لَیۡلًا اَوۡ نَہَارًا فَجَعَلۡنٰہَا حَصِیۡدًا کَاَنۡ لَّمۡ تَغۡنَ بِالۡاَمۡسِ ؕ کَذٰلِکَ نُفَصِّلُ الۡاٰیٰتِ لِقَوۡمٍ یَّتَفَکَّرُوۡنَ অর্থ: বস্তুতঃ পার্থিব জীবনের দৃষ্টান্ত তো বৃষ্টির মত, যা আমি আসমান হতে বর্ষণ করি। অতঃপর তার দ্বারা উৎপন্ন হয় ভূপৃষ্ঠের উদ্ভিদগুলো অতিশয় ঘন হয়ে, যা হতে মানুষ ও পশুরা ভক্ষণ করে। অতঃপর যখন ভূমি তার শোভা ধারণ করে ও নয়নাভিরাম হয়ে ওঠে এবং তার মালিকরা মনে করে যে, তারা এখন তার পূর্ণ অধিকারী, তখন দিনে অথবা রাতে তার উপর আমার (আযাবের) আদেশ এসে পড়ে, সুতরাং আমি তা এমনভাবে নিশ্চিহ্ন করে দিই, যেন গতকাল তার অস্তিত্বই ছিল না। এরূপেই আয়াতগুলোকে আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বিশদরূপে বর্ণনা করে থাকি।

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ ……।
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধনঃ

এই আয়াতে حَصِيدًا শব্দটি محصودًا অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ এমন ফসল যা কেটে এক জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয় এবং ক্ষেত পরিষ্কার হয়ে যায়। পার্থিব জীবনকে এইরূপ ক্ষেতের সাথে তুলনা করে তা যে ক্ষণস্থায়ী; চিরস্থায়ী নয়, তা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। ফসলও বৃষ্টির পানি দ্বারা বড় এবং সবুজ ও সতেজ হয়, কিন্তু পরে তা কেটে শুকিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়। এখানেও পার্থিব জীবনের সাধারণ নিয়মের কথা-ই বলা হয়েছে। যার সাথে ঐশী জীবন-ব্যবস্থার লেশমাত্র সম্পর্ক নেই। তাই আয়াতের প্রাসঙ্গিকতার বিচারে বলতে পারি, কাদিয়ানিদের ধারণা করা ঠিক হবেনা যে, এই আয়াত-ও ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুর প্রমাণ! আল্লাহতায়ালা এদের বিচার-বুদ্ধি দান করুন। যাতে মির্যা কাদিয়ানী’র অন্তঃসারশূন্য দাবীর অনর্থক চর্বিতচর্বণ করা থেকে ফিরে আসতে পারে।

[১৭] সূরা মুমিনূন/২৩:১৫

ثُمَّ اِنَّکُمۡ بَعۡدَ ذٰلِکَ لَمَیِّتُوۡنَ অর্থ: এরপর তোমরা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে।

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ… …।
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধনঃ

এখানে মূলত আল্লাহ তা‘আলার একটি বিশেষ ক্ষমতার কথা বর্ণনা করা হচ্ছে আর তা হল মানব জাতির সৃষ্টি প্রক্রিয়া। মানুষকে আল্লাহ তা‘আলা কত সূক্ষ্মভাবে নগণ্য বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছেন যা মানুষের তুচ্ছতা ও দুর্বলতা প্রকাশ করে আর আল্লাহ তা‘আলার মহত্ব, বড়ত্ব ও ক্ষমতা প্রকাশ করে। যাইহোক, উক্ত আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য শুধুমাত্র মানব-জাতির সৃষ্টির সূচনা অতপর সমাপ্তির ধাপগুলোর বর্ণনা করা। 

তাই এর সাথে আল্লাহ প্রদত্ত মেয়াদ পূর্ণ হবার আগেই ঈসা (আঃ)-কে জীবিত কিবা মৃত সাব্যস্ত করার এমন কী যুক্তিকতা আছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। অথচ কোনো মুসলমান-ই ঈসা (আঃ)-কে অমরত্বের অধিকারী দাবী করেনা, বরং বিশ্বাস করে তিনি-ও দুনিয়ায় দ্বিতীয়বার আগমন করার পর প্রকৃতির উক্ত নিয়মে-ই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবেন। ইনশাআল্লাহ।

[১৮] সূরা যুমার/৩৯:২১

اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَسَلَکَہٗ یَنَابِیۡعَ فِی الۡاَرۡضِ ثُمَّ یُخۡرِجُ بِہٖ زَرۡعًا مُّخۡتَلِفًا اَلۡوَانُہٗ ثُمَّ یَہِیۡجُ فَتَرٰىہُ مُصۡفَرًّا ثُمَّ یَجۡعَلُہٗ حُطَامًا ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَذِکۡرٰی لِاُولِی الۡاَلۡبَاب অর্থ: তুমি কি দেখ না, আল্লাহ আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, অতঃপর ভূমিতে ঝরনারূপে প্রবাহিত করেন এবং তা দিয়ে বিবিধ বর্ণের ফসল উৎপন্ন করেন। অতঃপর এটি শুকিয়ে যায় এবং তোমরা তা হলুদবর্ণ দেখতে পাও, অবশেষে তিনি তা টুকরা-টুকরা করে দেন? এতে অবশ্যই বুদ্ধিশক্তিসম্পন্ন লোকদের জন্য উপদেশ রয়েছে।

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ ……।
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধনঃ

আয়াতে উল্লিখিত يَنْبُوْعٌ এর বহুবচন يَنَابِيْعَ। এর অর্থ ঝরনা। অর্থাৎ বৃষ্টিরূপে আকাশ থেকে পানি বর্ষণ হয় এবং তা শোষিত হয়ে ভূগর্ভে নেমে গিয়ে ঝরনার আকারে নির্গত হয় অথবা পুকুরসমূহে ও নদী-নালায় সংরক্ষিত হয়ে যায়। অর্থাৎ সেই একই পানি দ্বারা বিভিন্ন প্রকার ফসল উৎপন্ন করেন, যার রঙ, স্বাদ, গন্ধ একটি অপরটি থেকে আলাদা। অর্থাৎ সবুজ ও তরতাজা হওয়ার পর সেই ফসল শুকিয়ে হলুদবর্ণ হয়ে যায় অতঃপর টুকরো টুকরো হয়ে (শস্য ও খড়কুটা বা ভুসি আলাদা আলাদা হয়ে যায়) যেমন গাছের ডাল শুকিয়ে ভেঙ্গে চুর চুর হয়ে যায়। অর্থাৎ বুদ্ধিমান জ্ঞানী ব্যক্তিগণ এর মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে, পৃথিবীর উদাহরণও অনুরূপ। পৃথিবী অতি অল্প সময়ের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যাবে। পৃথিবীর চাকচিক্য ও সতেজতা, তার শ্যামলতা ও সৌন্দর্য এবং তার আমোদ-প্রমোদ ও আরাম-আয়েশ ক্ষণকালের জন্য। এ সকল বস্তুকে মানুষের মন-প্রাণ দিয়ে ভালবাসা উচিত নয়। বরং সেই মৃত্যুর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকা দরকার, যার পরের জীবন হল চিরস্থায়ী জীবন, যার কোনো শেষ নেই। কেউ কেউ বলেন এ হল কুরআন ও ঈমানদার ব্যক্তির হৃদয়ের উদাহরণ। উদ্দেশ্য হল যে, আল্লাহ তাআলা আকাশ থেকে কুরআন অবতীর্ণ করেছেন; যা তিনি মু’মিনদের হৃদয়ে প্রক্ষিপ্ত করেন। অতঃপর তার দ্বারা দ্বীন উদগত হয়। আর তার ফলে মানুষ এক অপরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বিবেচিত হয়। সুতরাং মু’মিনগণের ঈমান ও একীন বৃদ্ধি পায়। আর যাদের মনে রোগ আছে তারা শুকিয়ে যাওয়া ফসলের মত শুকিয়ে যায়। (ফাতহুল ক্বাদীর, )।

সে যাইহোক, কাদিয়ানিরা এই আয়াত দ্বারাও আল্লাহর নির্ধারিত মেয়াদকাল পূর্ণ হওয়ার আগেই ঈসা (আঃ) হায়াতে জীবিত নেই, বলতে চায়। আল্লাহ-ই ভাল জানেন তাদের অন্তরের অন্ধত্ব কবে নাগাদ ভাল হলে এধরণের মির্যায়ী চর্বিতচর্বণ থেকে তারা বেরিয়ে আসবে! আল্লাহ! তুমি তাদের হিদায়াত দান কর।

[১৯] সূরা আল ফোরকান/২৫:২০

وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنَا قَبۡلَکَ مِنَ الۡمُرۡسَلِیۡنَ اِلَّاۤ اِنَّہُمۡ لَیَاۡکُلُوۡنَ الطَّعَامَ وَ یَمۡشُوۡنَ فِی الۡاَسۡوَاقِ ؕ وَ جَعَلۡنَا بَعۡضَکُمۡ لِبَعۡضٍ فِتۡنَۃً ؕ اَتَصۡبِرُوۡنَ ۚ وَ کَانَ رَبُّکَ بَصِیۡرًا অর্থ: তোমার পূর্বে আমি যে সব রসূল প্রেরণ করেছি তারা সকলেই তো আহার করত ও হাটে-বাজারে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের মধ্যে এককে অপরের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। তোমরা ধৈর্য ধারণ করবে কি? তোমার প্রতিপালক সমস্ত কিছুর সম্যক দ্রষ্টা।

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ. …..। 
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধনঃ

আয়াতের ভাষ্য হল, তাঁরা মানুষ ছিলেন এবং খাদ্যের মুখাপেক্ষী ছিলেন। এই আয়াত দ্বারা মুহাম্মদ (সাঃ) সহ পূর্বের সকল নবী রাসূল মানুষ-ই ছিলেন তার প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। বিস্তারিত ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে। পরের আয়াত মতে, তারা হালাল রুযী সংগ্রহ করার মানসে উপার্জন ও বাণিজ্য করতেন। যার অর্থ হল, এসব বিষয় নবুওতী মর্যাদার পরিপন্থী নয়, যেমন কিছু কিছু লোক মনে করে। এরপরে আল্লাহ বলেন, আমি ঐসব নবী আর তাদের মাধ্যমে তাদের অনুসারীদেরকেও পরীক্ষা করেছি, যাতে আসল ও নকলের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়। অতএব যারা পরীক্ষায় ধৈর্য ও সহনশীলতাকে আঁকড়ে ধরে থেকেছে, তারা হয়েছে সফল এবং অন্যরা বিফল। সেই জন্য পরে বলা হয়েছে, তোমরা ধৈর্যধারণ করবে কি? তারপর বলা হয়েছে যে, তিনি জানেন, ওহী আর রিসালাতের উপযুক্ত ও অনুপযুক্ত কে? সূরা আন’আম, আয়াত নং ১২৪ দেখুন, আল্লাহ তায়ালা বলেন اللهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ (অর্থাৎ আল্লাহ-ই ভাল জানেন তাঁর রেসালতের উপযুক্ত কারা?)।

যাইহোক, কাদিয়ানিদের বুঝা উচিৎ, নশ্বর এই পৃথিবীর প্রচলিত নিয়ম আর আকাশের নিয়ম দুটোকে একই মনে করা চরম মূর্খতার শামিল। তাই আকাশেও খাবার দাবারের প্রয়োজন আছে মনে করা ভুল। উল্লেখ্য, আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণা আমাদের বলে, আবহাওয়ার প্রভাবে দেহের ক্ষয়প্রাপ্ত কোষগুলো সচল করতেই খাবারের প্রয়োজন হয়ে থাকে।

[২০] সূরা আন নাহাল/১৬:২০-২১

وَ الَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ لَا یَخۡلُقُوۡنَ شَیۡئًا وَّ ہُمۡ یُخۡلَقُوۡنَ . اَمۡوَاتٌ غَیۡرُ اَحۡیَآءٍ ۚ وَ مَا یَشۡعُرُوۡنَ ۙ اَیَّانَ یُبۡعَثُوۡنَ অর্থ: যারা আল্লাহ ছাড়া অপরকে আহবান করে তারা কিছুই সৃষ্টি করে না, বরং তাদেরকেই সৃষ্টি করা হয়। তারা নিষ্প্রাণ, নির্জীব এবং পুনরুত্থান কবে হবে, সে বিষয়ে তাদের কোনো চেতনা (বোধ) নেই।

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ… …।
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধনঃ 

অন্যন্য আয়াতের তুলনায় এই আয়াতগুলোতে গায়রুল্লাহ’র একটি অতিরিক্ত গুণের কথা বলা হয়েছে; তারা সৃষ্টিকর্তা নয়…এ কথা খন্ডন করার সাথে সাথে তারা নিজেরাই যে সৃষ্ট, সে কথাও সাব্যস্ত করা হয়েছে। (ফাতহুল কাদীর)। মৃত বলতে প্রাণহীন ও চেতনাহীন জড় (পাথর)ও বটে এবং মৃত সৎলোকও বটে। কারণ মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের কথা বলা (যে ব্যাপারে তাদের কোনো বোধ নেই) জড় ব্যতীত সৎলোকেদের জন্যই বেশী সঙ্গত বলে মনে হয়। তাদেরকে শুধু মৃতই বলা হয়নি; বরং জীবিত নয় বলে-ও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ’র এই কথার পর জানা গেল, মৃত্যু এসে যাওয়ার পর পার্থিব জীবন কেউ পেতে পারে না, আর না পৃথিবীর সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকে। তাহলে তাদের থেকে উপকার বা মঙ্গল কামনা কেমন করে করা যেতে পারে? এতে আরো বুঝা গেল, কবরবাসী থেকে সাহায্য চাওয়া অনর্থক। বরং তারা-ই দুনিয়াবাসীর কাছে সাওয়াব রেসানীর প্রতি মুখাপেক্ষী।

সে যাইহোক, কাদিয়ানিরা এই আয়াত দ্বারা-ও ঈসা (আঃ)-কে আল্লাহর নির্দিষ্ট কাল পূর্ণ করার আগেই মৃত সাব্যস্ত করতে চায়। আল্লাহ-ই ভাল জানেন তাদের অন্তরের অন্ধত্ব কবে নাগাদ ভাল হলে এধরণের চর্বিতচর্বণ থেকে বেরিয়ে আসবে! আল্লাহ! তুমি-ই একমাত্র হিদায়াতকারী। (বাকিয়াংশ দেখতে ক্লিক করুন)

  • প্রথম ভাগ  Click
  • তৃতীয় ভাগ  Click 
Share.

Leave A Reply

indobokep borneowebhosting video bokep indonesia videongentot bokeper entotin videomesum bokepindonesia informasiku videopornoindonesia bigohot