indobokep borneowebhosting video bokep indonesia videongentot bokeper entotin videomesum bokepindonesia informasiku videopornoindonesia bigohot

ত্রিশ আয়াতের ভুল ব্যাখ্যার খন্ডন (৩)

0

তৃতীয় ভাগ

[২১] সূরা আহযাব/৩৩:৪০

مَا کَانَ مُحَمَّدٌ اَبَاۤ اَحَدٍ مِّنۡ رِّجَالِکُمۡ وَ لٰکِنۡ رَّسُوۡلَ اللّٰہِ وَ خَاتَمَ النَّبِیّٖنَ ؕ وَ کَانَ اللّٰہُ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمًا অর্থ মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন বরং তিনি আল্লাহ’র রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ। 

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ….. .।
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধনঃ

 প্রথমত, خَاتَمٌ (খাতাম) শব্দের একটি অর্থ মোহর। তাই শব্দটিকে “মোহর” অর্থে ধরে কেউ কেউ বলেছেন, নবী (সাঃ)-এর আগমনের মধ্য দিয়ে আল্লাহতায়ালা সকল প্রকারের নবুওত ও রিসালাতের দ্বার মোহর মেরে চিরতরে বন্ধ করে দেন। তাঁর পর যে কেউ নবী হওয়ার দাবী করবে, সে নবী নয়; বরং মিথ্যুক ও দাজ্জাল বলে পরিগণিত হবে। যেহেতু মোহর সর্বশেষ কর্মকে বলা হয়। যেমন পত্রের শেষে মোহর মারা হয়। উক্ত বিষয়ে হাদীস গ্রন্থসমূহে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে এবং তাতে সকল উম্মত একমত।

দ্বিতীয়ত, দুররে মানছূর কিতাবে ‘সূরা আহযাব’ এর وَ خَاتَمَ النَّبِیّٖنَ-এর অর্থ হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর শিষ্য হযরত কাতাদা (রহঃ) থেকে آخر نبى (উচ্চারণ : আখিরু নাবিয়্যিন) [অর্থাৎ শেষ নবী] উল্লেখ রয়েছে। (স্ক্রীনশটে দেখুন

  • মজার ব্যাপার হল :

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নিজেও নবী দাবী করার আগে মুহাম্মদে আরাবী (সাঃ)-কে ‘খাতামান নাবিয়্যীন’ দ্বারা  নবীদের আগমনীধারা সমাপ্তকারী অর্থাৎ শেষনবী‘-ই অর্থ নিতেন এবং বিশ্বাস করতেন যে, তাঁর পরে আল্লাহ তায়ালা আর কাউকে নতুনভাবে নবুওত দেবেন না, অর্থাৎ নবী হওয়ার ধারাবাহিকতা এখন পুরোপুরি শেষ। তার লেখিত ‘ইযালায়ে আওহাম‘ (২য় খন্ড) এবং রূহানী খাযায়েন খন্ড নং ৩ পৃষ্ঠা নং ৪৩১ এর স্ক্রীনশটে দেখুন! 

  • মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানির সুস্পষ্টরূপে নবুওত ও রেসালতের দাবী করার প্রমাণ স্ক্রীনশটে দেখুন

(মির্যা কাদিয়ানী রচিত, দাফেউল বালা :১২ [বাংলা অনূদিত])

কাদিয়ানিদের প্রশ্ন, তাহলে ‘কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে ঈসা (আঃ)-এর আগমন সংক্রান্ত বিশ্বাস কিভাবে সঠিক হয়? তখন তো ঈসা (আঃ)-ই শেষ নবী হয়ে যাচ্ছেন, তাই নয় কি?

এর জবাব এই যে, ঈসা (আঃ) আবার যখন আসবেন তখন তিনি শুধুমাত্র শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উম্মত হয়ে আসবেন। আরো সহজ করে বললে, তিনি দ্বিতীয়বার এসে নতুনভাবে নবুওতপ্রাপ্ত হবেন না, কারণ তিনি মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জন্মের-ও আগ থেকে একজন নবুওতপ্রাপ্ত নবী। বলা বাহুল্য নবীগণ নবুওত একবার-ই পেয়ে থাকেন, দুইবার নয়। ফলে তাঁর (ঈসা) পুনঃআগমন হওয়া ‘খতমে নবুওত’-এর আকীদার পরিপন্থী নয়। হ্যাঁ তাঁর পুনঃআগমনে নবুওতি দফতরের দ্বার খুলে যাওয়ার প্রশ্ন তখনি উঠত, যখন ঈসা (আঃ) আবার এসে পুনঃবার নবুওত পাওয়ার দাবি করতেন! তাই এরকম মনগড়া যুক্তির বশবর্তী হয়ে ঈসা (আঃ) এর পুনঃআগমনকে ভুল আখ্যা দেয়া ঠিক হবেনা।

এককথায়, যিনি সবার শেষে নবুওত লাভ করেন তিনি-ই শেষনবী হন। ঈসা (আঃ)-এর প্রাপ্ত নবুওত যেহেতু সবার শেষে ছিল না তাই তিনি পুনঃবার আসায় শেষনবী হবেন না।

ইমাম আবু আল লাইছ সামরকন্দী (রহঃ) রচিত ‘তাফসীরে সামরকন্দী’র ১ম খন্ডের ২৭২ নং পৃষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য পাওয়া যায়। আজ থেকে প্রায় সাড়ে নয়শত বছর পূর্বে রচিত উক্ত গ্রন্থে লিখা আছে, “ঈসা (আঃ) আল্লাহর নিকট শেষনবী’র উম্মত হতে চেয়ে দোয়া করেছিলেন। তাই আল্লাহতায়ালা তাঁর উক্ত দোয়া কবুল করেছেন।” সূরা আলে ইমরান ৫৫ এর তাফসীর অংশ দ্রষ্টব্য। (স্ক্রীনশটে দেখুন

সুতরাং প্রমাণিত হল যে, আগত ঈসা ইবনে মরিয়ম বলতে রূপক কোনো ঈসা উদ্দেশ্য নন, বরং আসল ঈসা-ই আগমন করা উদ্দেশ্য।

[২২] সূরা আন-নাহাল/১৬:৪৩

وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِکَ اِلَّا رِجَالًا نُّوۡحِیۡۤ اِلَیۡہِمۡ فَسۡـَٔلُوۡۤا اَہۡلَ الذِّکۡرِ اِنۡ کُنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ অর্থ: তোমার পূর্বে পুরুষদেরকেই আমি (রসূলরূপে) প্রেরণ করেছি; যাদের নিকট আমি অহী পাঠাতাম। তোমরা যদি না জান, তাহলে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা কর। 

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ….. .।
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধনঃ

উক্ত আয়াতে উল্লিখিত أهل الذكر (জ্ঞানী) বলতে আহলে কিতাবদের বুঝানো হয়েছে, যারা পূর্ববর্তী আম্বিয়া ও তাঁদের ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত ছিল। উদ্দেশ্য হল, আমি যত রসূল পাঠিয়েছি, তারা সকলেই মানুষ ছিল। অতএব যদি মুহাম্মদও মানুষ হয়, তাহলে এটা কোন নতুন কথা নয় যে, তোমরা তার মানুষ হওয়ার কারণে তার রিসালতকেই অস্বীকার করবে। যদি তোমাদের সন্দেহ হয়, তাহলে আহলে কিতাবদের জিজ্ঞাসা কর যে, পূর্ববর্তী নবীগণ মানুষ ছিল, না ফেরেশতা? যদি তারা ফেরেশতা হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই অস্বীকার করো। আর যদি তারাও মানুষ হয়, তাহলে মুহাম্মদ মানুষ হওয়ার কারণে তার রিসালাতকে অস্বীকার কেন করছো?

আফসোস! কাদিয়ানিদের মতানুসারে এই আয়াতটাও নাকি ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুর স্বপক্ষে দলিল! অথচ আল্লাহ উক্ত আয়াতে মুশরিকদের একটি ভ্রান্ত ধারণার জবাব দিয়েছেন মাত্র!

[২৩] সূরা ফজর/৮৯:২৭-৩০

یٰۤاَیَّتُہَا النَّفۡسُ الۡمُطۡمَئِنَّۃُ. ارۡجِعِیۡۤ اِلٰی رَبِّکِ رَاضِیَۃً مَّرۡضِیَّۃً فَادۡخُلِیۡ فِیۡ عِبٰدِیۡ. অর্থ: হে উদ্বেগশূন্য চিত্ত! তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট ফিরে এসো সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। সুতরাং তুমি আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও।

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ….. .।
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধনঃ

আয়াতটির উদ্দেশ্য নেককার বান্দাদের দুনিয়াতেই সুসংবাদ দান করা! অর্থাৎ তাঁর প্রতিদান, পুরস্কার আর ওই সুখ-সামগ্রীর নিকট ফিরে এসো; যা তিনি নিজ (নেক) বান্দার জন্য জান্নাতে প্রস্তুত রেখেছেন। কেউ কেউ বলেন, কিয়ামতের দিন এ কথা বলা হবে। আবার কেউ বলেন যে, মৃত্যুর সময় ফিরিশতাগণ বান্দাকে এ কথা বলে সুসংবাদ দেন। এই প্রকার কিয়ামতের দিনেও তাদেরকে বলা হবে, যা আয়াতে উল্লেখ হয়েছে। হাফেয ইবনে কাসীর (রঃ) ইবনে আসাকেরের হাওয়ালায় বলেন যে, নবী (সাঃ) এক ব্যক্তিকে এই দু’আটি পড়ার আদেশ দিয়েছেনঃ ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আস্আলুকা নাফসান বিকা মুত্বমাইন্নাহ, তু’মিনু বিলিকায়িকা অতারযা বিক্বায্বা-য়িকা অতাক্বনাউ বিআত্বা-য়িক।’ (তাফসীরে ইবনে কাসীর)। আফসোস! কাদিয়ানিদের মতানুসারে এই আয়াতটাও নাকি ঈসা (আঃ) মৃত্যুর স্বপক্ষে দলিল! বিজ্ঞ পাঠকবৃন্দের নিরপেক্ষ বিবেক কী বলে?

[২৪] সূরা রূম/৩০:৪০

اَللّٰہُ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ ثُمَّ رَزَقَکُمۡ ثُمَّ یُمِیۡتُکُمۡ ثُمَّ یُحۡیِیۡکُمۡ ؕ ہَلۡ مِنۡ شُرَکَآئِکُمۡ مَّنۡ یَّفۡعَلُ مِنۡ ذٰلِکُمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ ؕ سُبۡحٰنَہٗ وَ تَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ অর্থ: আল্লাহ্ যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তোমাদেরকে রিজিক দিয়েছেন, তারপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন অবশেষে তিনি তোমাদেরকে জীবিত করবেন। (আল্লাহ্‌র সাথে শরীক সাব্যস্তকৃত) তোমাদের মা’বুদগুলোর এমন কেউ আছে কি, যে এসবের কোনো কিছু করতে পারে? তারা যাদেরকে শরীক করে, তিনি (আল্লাহ্) সে সব (শরীক) থেকে মহিমাময়-পবিত্র ও অতি ঊর্ধ্বে।

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ….. .।
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধনঃ

এখান থেকে আবার মুশরিকদেরকে বুঝাবার জন্য বক্তব্যের ধারা তাওহীদ ও আখেরাতের বিষয়বস্তুর দিকে ফিরে দেয়া হয়েছে। পরের আয়াতের ভাষ্য, তোমাদের তৈরী করা উপাস্যদের মধ্যে কেউ কি সৃষ্টিকর্তা ও রিযিকদাতা? জীবন ও মৃত্যু দান করা কি কারো ক্ষমতার আওতাভুক্ত আছে? অথবা মরার পর সে আবার কাউকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতা রাখে? তাহলে তাদের কাজ কি? তোমরা তাদেরকে উপাস্য বানিয়ে রেখেছো কেন? (তাফসীরে তাবারী দ্রঃ)।

আয়াতগুলোর সার হচ্ছে, মুশরিকদের বানানো সৃষ্ট উপাস্যগুলো কিছুতেই আল্লাহর সমকক্ষ হতে পারেনা। সুতরাং তাদের উপাসনা নেহাতই অনর্থক বৈ কি? কিন্তু কাদিয়ানিদের দৃষ্টিতে এই আয়াতটাও নাকি ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুর সপক্ষে ওই ত্রিশটি আয়াতের একটি! জ্ঞানীরা ভেবে দেখবেন!

[২৫] সূরা আর-রহমান/৫৫:২৬-২৭

کُلُّ مَنۡ عَلَیۡہَا فَانٍ অর্থ: ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবকিছুই ধ্বংসশীল।

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ….. .।
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধনঃ

উক্ত আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য এই যে, ভূপৃষ্ঠে যত জ্বীন ইনসান রয়েছে একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে তারা সবাই ধ্বংসশীল তথা মৃত্যুবরণ করবে। এবার হয়ত কোনো মূর্খ যুক্তিবাদী বলতে পারে, হযরত ঈসা (আঃ) আকাশে হয়ে থাকলে এই আয়াত দ্বারা তো বুঝা যাচ্ছে যে, তাঁর মৃত্যু হবেনা! এর জবাব এই যে, ঈসা ইবনে মরিয়ম (আঃ) বর্তমানে যদিওবা আকাশে আছেন কিন্তু শেষ যুগে তিনিও দ্বিতীয়বার আবির্ভূত হওয়ার পর অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবেন। জানার বিষয় যে, এই সূরায় ২৬-২৭ দুই আয়াতব্যাপী দুনিয়াস্থিত বিশেষত জ্বীন ইনসানকে সম্বোধন করে বলার কারণে জরুরি হয় না যে, আকাশ ও আকাশস্থিত সৃষ্ট বস্তু ধ্বংসশীল নয়! কেননা অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তা’আলা ব্যাপক অৰ্থবোধক ভাষায় সমগ্র সৃষ্টিজগতের ধ্বংসশীল হওয়ার বিষয়টিও ব্যক্ত করেছেন। যেমন সূরা আল কাসাস এর ৮৮ নং আয়াতে আছে : “তাঁর চেহারা (সত্তা) ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল।” (ফাতহুল কাদীর, ইবনে কাসীর; কুরতুবী দ্রঃ)।

একজন শিক্ষীত ও নিরপেক্ষ ব্যক্তি কিছুতেই এই সমস্ত আয়াতের প্রসঙ্গ এড়িয়ে দাবী করতে পারে না যে, আয়াতগুলো ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুর সপক্ষে দলীল! তার কারণ, সহীহ সূত্রে রাসূল (সাঃ) থেকে অসংখ্য হাদীস দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণ রয়েছে যে, কেয়ামতের আগে হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম অবশ্যই আকাশ থেকে নাযিল হবেন। শুধু ‘আকাশ থেকে’ শব্দচয়নে সহীহ হাদীসের সংখ্যা-ই রয়েছে আমার দেখামতে অনূর্ধ্ব চারখানা।

এ সম্পর্কে পড়তে ক্লিক করুন : www.markajomar.com/?p=4646

তাই প্রিয়বন্ধুরা! ঈসা (আঃ)-কে মৃত সাব্যস্ত করার অর্থই হল প্রকারান্তরে রাসূলে আরাবী (সাঃ)-কেই মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করা। যা সুস্পষ্ট কুফুরী। আল্লাহ যেন কাদিয়ানিদের অন্তরের অন্ধত্ব ভাল করে দেন। আমীন!

[২৬] সূরা ক্বামার/৫৪:৫৪

اِنَّ الۡمُتَّقِیۡنَ فِیۡ جَنّٰتٍ وَّ نَہَرٍ অর্থ: সাবধানীরা থাকবে জান্নাতসমূহ ও নহরে।

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ….. .।
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধনঃ

এই আয়াত মুমিনদের জন্য একটি ঐশী-সুসংবাদ। তাদের জন্য প্রস্তুতকৃত জান্নাতে বিভিন্ন প্রকারের দৃষ্টিনন্দন বাগান থাকবে। আয়াতে نَهْرٌ শব্দটি জিনস (জাতি) হিসাবে ব্যবহার হয়েছে, যাতে জান্নাতের সকল প্রকার নদী শামিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, কাদিয়ানিদের দৃষ্টিতে এই আয়াতটিও নাকি ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুবরণ করার সপক্ষে অন্যতম দলিল! সত্যিকারের জ্ঞানী মাত্র-ই বুঝতে পারে যে, পবিত্র কুরআন আর হাদীসের নাম ভেঙ্গে এরা কতটা মিথ্যা বলায় পারদর্শী!

[২৭] সূরা আম্বিয়া/২১:১০১

اِنَّ الَّذِیۡنَ سَبَقَتۡ لَہُمۡ مِّنَّا الۡحُسۡنٰۤی ۙ اُولٰٓئِکَ عَنۡہَا مُبۡعَدُوۡنَ অর্থ: নিশ্চয় যাদের জন্য আমার নিকট থেকে পূর্ব হতে কল্যাণ নির্ধারিত রয়েছে, তাদেরকে তা (জাহান্নাম) হতে দূরে রাখা হবে।

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ….. .।
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধনঃ

কোনো কোনো মানুষের মনে এ প্রশ্ন জাগতে পারে বা মুশরিকদের পক্ষ হতে এ প্রশ্ন উঠতে পারে; বরং বাস্তবে উঠেও থাকে যে, যেমন ঈসা (আঃ), উযায়ের, ফেরেশতা ও বহু সৎলোকেরও তো ইবাদত করা হয়ে থাকে, তাহলে এরাও কি তাদের ইবাদতকারীর সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করবে? এ আয়াতে সে উত্তর দেওয়া হয়েছে। আর তা এই যে, তাঁরা ছিলেন আল্লাহর নেক বান্দা; যাঁদের নেকীর কারণে আল্লাহর পক্ষ হতে তাঁদেরকে চিরস্থায়ী সুখী জীবন বা জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা জাহান্নাম হতে সুদূরে থাকবেন।

এ শব্দগুলো দ্বারা এ কথাও পরিষ্কারভাবে বুঝা যায় যে, যে ব্যক্তি পৃথিবীতে এই ইচ্ছা ও কামনা রেখে মারা যায় যে, তার মৃত্যুর পর তার কবরকে মাজার বানানো হোক এবং লোকেরা তাকে প্রয়োজন পূরণকারী (দাতা) মনে করে তার নামে নযর-নিয়ায পেশ করুক ও তার পূজা (ও সিজদাহ) হোক, তাহলে সে ব্যক্তিও জাহান্নামের ইন্ধন হবে। কারণ আল্লাহকে ছেড়ে অথবা তাঁর সাথে নিজের ইবাদতের প্রতি আহবানকারী (তাগূত) নিঃসন্দেহে সেই নেক মানুষদের আওতায় কখনও পড়বে না, ‘যাদের জন্য আল্লার নিকট থেকে পূর্ব হতে কল্যাণ নির্ধারিত রয়েছে।’

আফসোস! কাদিয়ানিদের দৃষ্টিতে এই আয়াতটিও নাকি ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুবরণ করার সপক্ষে অন্যতম দলিল! সত্যিকারের জ্ঞানী মাত্র-ই বুঝতে পারে যে, পবিত্র কুরআন আর হাদীসের নাম ভেঙ্গে এরা কত নিকৃষ্টভাবে মানুষকে প্রতারিত করে থাকে!

[২৮] সূরা নিসা/০৪:৭৮

اَیۡنَ مَا تَکُوۡنُوۡا یُدۡرِکۡکُّمُ الۡمَوۡتُ وَ لَوۡ کُنۡتُمۡ فِیۡ بُرُوۡجٍ مُّشَیَّدَۃٍ ؕ وَ اِنۡ تُصِبۡہُمۡ حَسَنَۃٌ یَّقُوۡلُوۡا ہٰذِہٖ مِنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ ۚ وَ اِنۡ تُصِبۡہُمۡ سَیِّئَۃٌ یَّقُوۡلُوۡا ہٰذِہٖ مِنۡ عِنۡدِکَ ؕ قُلۡ کُلٌّ مِّنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ ؕ فَمَالِ ہٰۤؤُلَآءِ الۡقَوۡمِ لَا یَکَادُوۡنَ یَفۡقَہُوۡنَ حَدِیۡثًا অর্থ: তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই; যদিও তোমরা সুউচ্চ সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান কর। আর যদি তাদের কোন কল্যাণ হয়, তাহলে তারা বলে, এ তো আল্লাহর নিকট থেকে, আর যদি তাদের কোন অকল্যাণ হয়, তাহলে তারা বলে, এ তো তোমার নিকট থেকে। বল, সব কিছুই আল্লাহর নিকট থেকে। এ সম্প্রদায়ের কি হয়েছে যে, এরা একেবারেই কোনো কথা বোঝে না।

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ….. .।
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধনঃ

এর দ্বারা দুর্বল মুসলমানদের বুঝানো হচ্ছে যে, প্রথমতঃ যে দুনিয়ার জন্য তোমরা অবকাশ কামনা করছ, সে দুনিয়া হল ধ্বংসশীল এবং তার ভোগ-সামগ্রী ক্ষণস্থায়ী। এর তুলনায় আখেরাত অতি উত্তম এবং চিরস্থায়ী। আল্লাহর আনুগত্য না করে থাকলে সেখানে তোমাদেরকে শাস্তি পেতে হবে। দ্বিতীয়তঃ জিহাদ কর আর না কর, মৃত্যু তো তার নির্ধারিত সময়েই আসবে; যদিও তোমরা কোন সুদৃঢ় দুর্গের মধ্যে অবস্থান কর তবুও। অতএব জিহাদ থেকে পশ্চাৎপদ হওয়ার লাভ কি? এই আয়াতের সার হচ্ছে, মৃত্যু অনিবার্য একটি জিনিস। যা ঘটবেই। হয়ত কারো আগে, কারো বা অনেক পরে। পরের আয়াত থেকে পুনরায় মুনাফিকদের আলোচনা শুরু হয়েছে। তারপরের আয়াতের ভাষ্য হল, কল্যাণ-অকল্যাণ উভয়ই আল্লাহর পক্ষ হতে। কিন্তু এরা নিজেদের বিবেক-বুদ্ধির স্বল্পতা এবং মূর্খতা ও যুলুম-অত্যাচারের আধিক্যের কারণে তা বোঝে না।

আফসোস! কাদিয়ানিদের দৃষ্টিতে এই আয়াতটিও নাকি ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুবরণ করার সপক্ষে অন্যতম দলিল!

[২৯] সূরা হাশর/৫৯:০৭

مَاۤ اَفَآءَ اللّٰہُ عَلٰی رَسُوۡلِہٖ مِنۡ اَہۡلِ الۡقُرٰی فَلِلّٰہِ وَ لِلرَّسُوۡلِ وَ لِذِی الۡقُرۡبٰی وَ الۡیَتٰمٰی وَ الۡمَسٰکِیۡنِ وَ ابۡنِ السَّبِیۡلِ ۙ کَیۡ لَا یَکُوۡنَ دُوۡلَۃًۢ بَیۡنَ الۡاَغۡنِیَآءِ مِنۡکُمۡ ؕ وَ مَاۤ اٰتٰىکُمُ الرَّسُوۡلُ فَخُذُوۡہُ ٭ وَ مَا نَہٰىکُمۡ عَنۡہُ فَانۡتَہُوۡا ۚ وَ اتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ ۘ অর্থ: আল্লাহ্‌ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রাসূলকে ‘ফাঈ’ হিসেবে যা কিছু দিয়েছেন তা আল্লাহ্‌র, রাসূলের, রাসূলের স্বজনদের, ইয়াতীমদের, মিসকীন ও পথচারীদের, যাতে তোমাদের মধ্যে যারা বিত্তবান শুধু তাদের মধ্যেই ঐশ্বর্য আবর্তন না করে। রাসূল তোমাদেরকে যা দেয় তা তোমারা গ্রহণ কর এবং যা থেকে নিষেধ কর তা থেকে বিরত থাক এবং তোমারা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর; নিশ্চয় আল্লাহ্‌ শাস্তি দানে কঠোর।

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ….. .।
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধনঃ

উল্লিখিত আয়াতগুলোতে মালে ফাঈ এর পরিচিতি ও তার হুকুম এবং বণ্টন পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ফাঈ বলা হয় প্রত্যেক ঐ সম্পদকে যা বিনা যুদ্ধে কাফিরদের থেকে পাওয়া যায়। যেমন বনু নাযীর গোত্রের মাল। ফাঈ এর মাল পাঁচ ভাগে ভাগ করা হবে-

  1. এক ভাগ আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের জন্য। এ সম্পদ মুসলিমদের সার্বিক কল্যাণে ব্যয় করা হবে।
  2.  দ্বিতীয় ভাগ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকটাত্মীয়দের জন্য, যেমন বনু হাশেম, বনু মুত্তালিব। এতে নারী-পুরুষ সবাই সমান।
  3.  তৃতীয় ভাগ ইয়াতিমদের জন্য,
  4. চতুর্থ ভাগ মিসকিনদের জন্য
  5. পঞ্চম ভাগ মুসাফিরদের জন্য (তাফসীরে সা‘দী)। উমর (রাঃ) বলেন, বনু নাযীর গোত্রের সম্পদ আল্লাহ তা‘আলা নবী (সাঃ)-কে ফাঈ হিসাবে প্রদান করেছেন যার জন্য ঘোড়া দৌড়ানো বা যুদ্ধের প্রয়োজন হয়নি। এটা একমাত্র নবী (সাঃ)-এর জন্য ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তা থেকে পরিবারের এক বছরের খরচের জন্য রাখতেন, বাকি যা থাকত মুসলিমদের অস্ত্র ইত্যাদি ক্রয়ের জন্য দিয়ে দিতেন। (সহীহ বুখারী হা/২৯০৪)। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর ইন্তেকালের পর তা বাইতুল মালে জমা হবে। যেমন তিনি বলেছেন : আমরা নাবীরা কারো ওয়ারিশ বানাই না, যা কিছু ছেড়ে যাই সব সদকাহ। (সহীহ বুখারী হা/ ৪০৩৩) তাই নাবী (সাঃ)-এর সম্পত্তির কোন উত্তরাধিকারী নেই।

আফসোস! কাদিয়ানিদের দৃষ্টিতে এই আয়াতটিও নাকি ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুবরণ করার সপক্ষে দলিল! আল্লাহ তাদের অন্তরের অন্ধত্ব ভাল করে দিন।

[৩০] সূরা ইসরাইল /১৭:৯৩

اَوۡ یَکُوۡنَ لَکَ بَیۡتٌ مِّنۡ زُخۡرُفٍ اَوۡ تَرۡقٰی فِی السَّمَآءِ ؕ وَ لَنۡ نُّؤۡمِنَ لِرُقِیِّکَ حَتّٰی تُنَزِّلَ عَلَیۡنَا کِتٰبًا نَّقۡرَؤُہٗ ؕ قُلۡ سُبۡحَانَ رَبِّیۡ ہَلۡ کُنۡتُ اِلَّا بَشَرًا رَّسُوۡلًا অর্থ: ‘অথবা তোমার একটি সোনার তৈরি ঘর হবে, অথবা তুমি আকাশে আরোহণ করবে, কিন্তু তোমার আকাশ আরোহণে আমরা কখনো ঈমান আনবো না যতক্ষণ তুমি আমাদের প্রতি এক কিতাব নাযিল না করবে যা আমরা পাঠ করব।‘ বলুন, ‘পবিত্র মহান আমার রব! আমি তো হচ্ছি শুধু একজন মানুষের রাসুল।

  • কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যাঃ….. .।
  • ব্যাখ্যার ভুল-সংশোধনঃ

উক্ত আয়াতগুলোতে মক্কার কাফির-মুশরিকরা ঈমান আনার পূর্বে নবী (সাঃ)-এর কাছে যে সকল দাবী পেশ করেছিল তার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। মূলত তারা সঠিক বিষয় জানার ও মানার জন্য এ সকল দাবী করেনি; বরং অস্বীকার করার জন্যই এ সকল ওযর-আপত্তি পেশ করেছিল।

  • এখানে কাদিয়ানিদের একটি প্রশ্নের জবাব দেয়া হবে। কারণ তাদের দাবী যে, রাসূল (সাঃ)-কে মক্কার কাফেররা বলেছিল ﺃَﻭْ ﺗَﺮْﻗَﻰٰ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ (অর্থাৎ অথবা তুমি আকাশে আরোহন করিবে [অনুবাদ-ইফা]।

তার উত্তরে আল্লাহ্ জবাব দিয়েছেনঃ ﻗُﻞْ ﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺭَﺑِّﻲ ﻫَﻞْ ﻛُﻨﺖُ ﺇِﻟَّﺎ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﺭَّﺳُﻮﻟًﺎ অর্থাৎ বল (মুহাম্মদ), পবিত্র মহান আমার প্রতিপালক! আমি তো হইতেছি কেবল একজন মানুষ, একজন রাসূল (অনুবাদ – ইফা)। কাদিয়ানিরা এ থেকে ধরে নেয়, মানুষ স্বশরীরে আকাশে যেতে পারে না। নতুবা রাসূল (সাঃ) কিজন্য আকাশে আরোহণ করে তাদের দেখাননি?

উত্তরে বলা হবে যে, উক্ত আয়াত দ্বারা কাদিয়ানী সম্প্রদায় যেই মর্মার্থ নিয়ে থাকে সেটি মোটেও ঠিক না। অন্যথা কাদিয়ানের নবুওত দাবিদার গোলাম আহমদের নিচের বক্তব্যটির কোনো জবাব থাকেনা। যেমন তিনি লিখেছেন,

  • “খোদাতায়ালা একটি অকাট্য ও বিশ্বাসযোগ্য ভবিষৎবাণীতে আমার প্রতি প্রকাশ করলেন যে, আমার বংশধর হতে এক ব্যক্তি জন্ম নেবে। যিনি কতেক আচার আচরণে মাসীহ ঈসা’র সাথে সাদৃশ্য রাখবে ও সে আকাশ থেকে অবতরণ করবে এবং দুনিয়াবাসির পথ সোজা করে দেবে তথা হিদায়াতের পথ দেখাবে।”
  • [তথ্যসূত্র : রূহানী খাযায়েন : ৩/১৮০; ইযালায়ে আওহাম ১ম খন্ড; ১৫৬ নং পৃষ্ঠা (রচনাকালঃ ১৮৯১ ইং)]।

তিনি সুস্পষ্ট করে وہ آسمان سے اترے گا (অর্থাৎ সে আকাশ থেকে অবতরণ করবে) লিখেছেন। তো এবার কিভাবে এর সমীকরণ মিলাবেন?

  • তারপর দেখতে হবে, পবিত্র কুরআনের আলোকে আকাশ থেকে কারো অবতরণ করার প্রমাণ আছে কিনা?

উত্তরে বলা যায়, হ্যাঁ ভুরি ভুরি প্রমাণ আছে। আল্লাহতায়ালা হযরত আদমকে সূরা বাক্বারা’র ৩৫ নং আয়াতে اسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ (অর্থাৎ তুমি এবং তোমার স্ত্রী জান্নাতে অবস্থান কর) বলেছেন। তাতে বুঝা যায়, উনারা ইতিপূর্বে জান্নাতে (আকাশে) ছিলেন, যদিও বা পরবর্তীতে পৃথিবীতে আসেন। তাই ওদের নিকট প্রশ্ন, মানুষ আকাশে যাওয়া অসম্ভব হলে তবে আকাশ থেকে অবতরণ করা সম্ভব হয় কিভাবে? আদৌ কি সদুত্তর আছে? নেই। তারপর সূরা আল ক্বদর আয়াত নং ৪ পড়ে দেখুন। تنزل الملائكة و الروح فيها অর্থাৎ ‘কদরের রজনীতে ফেরেশতারা ও রূহ (জিব্রাইল) পৃথিবীতে আকাশ থেকে অবতীর্ণ হন।’

এবার মূল জবাবে আসা যাক। রাসূল (সাঃ)-এর প্রতি মক্কার কাফেরদের দাবী কিন্তু শুধুই আকাশে আরোহন করা ছিলনা! অপ্রিয় হলেও সত্যকথা যে, কাদিয়ানিদের ভয়ংকর একটি ছাল হচ্ছে তারা মতলব হাছিল করার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ আয়াত কিবা সম্পূর্ণ হাদীস কখনো উল্লেখ করেনা।

এই দেখুন তাদের উল্লিখিত ﺃَﻭْ ﺗَﺮْﻗَﻰٰ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ (অর্থাৎ অথবা তুমি আকাশে আরোহন করিবে)। এর আগে এবং পরে কুরাইশদের আরো বেশকিছু দাবী (আয়াত নং ৯০-৯৩ ব্যাপী) উল্লেখ আছে। যথাক্রমেঃ-

  • কুরাইশরা বলেছিল :
  1. আমরা কখনোই তোমার উপর ঈমান আনব না, যতক্ষণ না তুমি আমাদের জন্য ভূমি হইতে এক প্রস্রবণ উৎসারিত করবে।
  2. খেজুরের ও আংগুরের বাগানের ফাঁকে ফাঁকে অজস্র ধারায় নদী-নালা প্রবাহিত করে দিবে।
  3. আকাশকে খন্ড-বিখন্ড করে তাদের (কুরাইশদের মাথার) উপর ফেলতে হবে।
  4. আল্লাহ এবং ফেরেশতাদেরকে তাদের (কুরাইশদের) সম্মুখে উপস্থিত করতে হবে।
  5. মহানবী (সাঃ)-এর একখানা স্বর্ণ নির্মিত ঘর হতে হবে।
  6. আকাশে আরোহন করতে হবে।
  7. আকাশে আরোহন করলেও তারা ঈমান আনবেনা যতক্ষণ পর্যন্ত মহানবী (সাঃ) তাদের প্রতি কোনো কিতাব অবতীর্ণ না করবেন।

অতএব বুঝা গেল, মক্কার কাফেরদের দাবী শুধু ১টি ছিলনা, মোট ৭ টি দাবী ছিল। কিন্তু কাদিয়ানিরা উপরের সব কয়টি দাবীকে পাশ কাটিয়ে শুধুমাত্র একটিকে পেশ করে থাকে। যা সুস্পষ্ট বিভ্রান্তি নয় কি?

সুতরাং কাদিয়ানী সম্প্রদায় অনেক বড় প্রতারক ও বিভ্রান্তকারী বলে তাদের দাবী এবং দলিল-প্রমাণ কোনো কিছুই বিশ্বাসযোগ্য নয়। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন। 

পরিশেষঃ 

  • আহমদিবন্ধুদের নিকট আমার জিজ্ঞাসা, গত চৌদ্দশত বছরের ইসলামের ইতিহাসকে চরমভাবে উপেক্ষা করে, অসংখ্য সহীহ হাদীসকে নিজেদের ইচ্ছেমত ব্যাখ্যা দিয়ে ও সকল যুগ ইমাম, মুফাসসীর, মুজতাহিদ এমনকি মুজাদ্দিদদের বক্তব্যকে-ও পাশ কেটে স্রেফ মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানির স্বরে স্বর মিলিয়ে বিশ্বাস করে নিয়েছেন যে, ঈসা (আঃ) বেঁচে নেই, তিনি এখন মৃত; আর-ও বিশ্বাস করেন যে, হাদীসে নাকি দুই ঈসার বৃত্তান্ত এসেছে, তাই আগত সেই ঈসা (আঃ) দ্বারা একজন ‘রূপক ঈসা‘ তথা মির্যা গোলাম আহমদ-ই উদ্দেশ্য, এমতাবস্থায় নিচের প্রশ্নগুলোর জবাব কিভাবে দেবেন?

(১) মির্যা গোলাম আহমদ সাহেব যদি দ্বিতীয় প্রকারের ঈসা হতেন তাহলে তিনি কথিত দুইজন ঈসার দ্বিতীয় জন দাবী না করে বরং ইসরায়েলি ঈসার রূপক (মাছীল) হবার দাবী কিজন্য করলেন?

(২) যদি তিনি ইসরায়েলি ঈসার একজন রূপক সত্তা হন তাহলে রাসূল (সাঃ) কর্তৃক স্বপ্নে দেখতে পাওয়া (আপনাদের মতানুসারে) কথিত দ্বিতীয় ঈসার কী হবে? যেখানে আলাদা দুই ঈসা সেখানে তিনি (মির্যা) ইসরায়েলি ঈসার রূপক হতে গেলেন কেন?

(৩) মির্যায়ীদের ধারণামতে দুইজন ঈসার অস্তিত্ব সঠিক হলে এবং মির্যা সাহেব দ্বিতীয় ঈসা হলে; তখন প্রশ্ন দাঁড়ায়, মির্যা গোলাম আহমদ জীবনে কখনো বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে সক্ষম হলেন না কিজন্য? তাহলে কি (আপনাদের মতানুসারে) বাদামী বর্ণের কথিত দ্বিতীয় ঈসাকে স্বপ্নে কা’বার তাওয়াফ করতে দেখাটা রাসূল (সাঃ)-এর ভুল ছিল বলবেন? নাউযুবিল্লাহ। কাসুন্দি ছেড়ে জবাব দেবেন!

(৪) রাসূল (সাঃ) এর বিশিষ্ট সাহাবী হযরত ইবনে উমর (রাঃ) বলেছেন, لا والله ما قال النبي صلى الله عليه وسلم لعيسى أحمر অর্থ: আল্লাহর শপথ! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ঈসাকে “লাল” বর্ণের বলে বুঝাননি (দেখুন, সহীহ বুখারী, কিতাবুল আম্বিয়া, হাদীস নং ৩৪৪১)। বিপরীতে মির্যা গোলাম আহমদ এর দাবী হচ্ছে, ঈসা দুইজনই। যাদের একজন লালবর্ণের আরেকজন বাদামী বর্ণের! যাইহোক, এমতাবস্থায় কার দাবী সত্য? রাসূল (সাঃ)-এর সাহাবীর দাবী সত্য নাকি নবুওতের দাবিদার মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর দাবী সত্য? কবি এখানে নিরব!

সুনানু আবু দাউদঃ কিতাবুল মালাহিম অধ্যায়ে এও উল্লেখ আছে, ঈসা (আঃ) এর গায়ের রঙ লালচে এবং সাদা উভয় বর্ণে মিশ্রিত। তাহলে মির্যার আগের (মনগড়া) ব্যাখ্যা দ্বারা হাদীসে দুই ঈসা’র বৃত্তান্ত থাকলে এবার “লালচে এবং সাদা উভয় বর্ণে মিশ্রিত” সহ মোট ৩জন ঈসা হয়ে গেল কিনা? 

(৫) সুনানু আবু দাউদ শরীফ’র “কিতাবুল মালাহিম” অধ্যায়ে উল্লেখ আছে, রাসূল (সাঃ) বলেছেন ليس بينى و بينه نبى يعنى عيسى و انه نازل অর্থঃ “আমার আর ঈসার মধ্যখানে আর কোনো নবী নেই। নিশ্চয়ই তিনি (ঈসা) নাযিল হবেন” (হাদীস নং ৪৩২৪)। আর এদিকে মির্যা গোলাম আহমদের মতে, হাদীসটিতে বর্ণিত অত্যাসন্ন এই ঈসা নাকি তিনি (মির্যা) নিজে। তাই আমার প্রশ্ন হল, এই ঈসা যদি মির্যা সাহেব-ই হন, তাহলে তিনি একই সাথে কথিত দ্বিতীয় ঈসা-ও কিভাবে হলেন? সমীকরণ তো মিলেনা!

(৬) মির্যা সাহেবের বই ‘কিশতিয়ে নূহ‘তে লিখা আছে, আল্লাহতায়ালা নাকি মির্যার নাম মরিয়ম রেখেছিলেন। দুইবছর পর্যন্ত তিনি মরিয়ম হিসেবেই প্রতিপালিত হন আর নারীসূলভ গোপনীয়তায় বেড়ে উঠেন। তিনি এর মধ্যে বেশ কয়েক মাস পর যা দশ মাসের বেশি নয়, তিনি নাকি রূপকভাবে গর্ভবতী হন আর নিজেই নিজের গর্ভে মরিয়ম থেকে ঈসাতে রূপান্তরিত হয়ে যান। এভাবেই তিনি ” ইবনে মরিয়ম” তথা মরিয়মের পুত্রে পরিণত হন। (দেখুন, রূহানী খাযায়েন ১৯/৫০)।

এখন জানার বিষয় হল, হাদীসে দুই ঈসা থাকলে আবার এদিকে মির্যা সাহেব দুই ঈসার দ্বিতীয় জন হলে; তখন তিনি মরিয়ম থেকে ইবনে মরিয়ম তথা ইসরায়েলি ঈসা-তে রূপান্তরিত হতে গেলেন কেন? তিনি কিজন্য দ্বিতীয় ঈসাকে বাদ দিয়ে ইসরায়েলি ঈসাতে রূপান্তরিত হতে গেলেন? কাসুন্দি ছেড়ে জবাব দেন!

(৭) মির্যা কাদিয়ানীর বইতে লিখা আছে, মির্যা গোলাম আহমদ নিজেও নাকি ইসরায়েলি বংশধর ছিলেন (দেখুন রূহানী খাযায়েন ১৮/২১৬)। অথচ উনার দাবী ছিল, ইসরায়েলি ঈসা (আঃ)-এর গায়ের রঙ লাল বর্ণের আর কথিত দ্বিতীয় ঈসার গায়ের রঙ বাদামী! তাই প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে, এই বাদামী বর্ণের কথিত দ্বিতীয় ঈসা গোলাম আহমদ কিজন্য ইসরায়েলি বংশধর হতে গেলেন? জ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলবে কিনা? 

(৮) মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানির জীবনীগ্রন্থ ‘আহমদ চরিত‘ (বাংলা) এর ৮ নং পৃষ্ঠায় পরিস্কার উল্লেখ আছে, “মির্যা সাহেবকে ১৮৯১ সালে আল্লাহ তায়ালা নাকি ইলহামের মাধ্যমে ঈসা (আঃ) এর মৃত্যুর সংবাদ জানিয়ে দিয়েছিলেন!” 

তাই প্রশ্ন আসবে, সত্য-ই যদি পবিত্র কুরআনের উক্ত ত্রিশ আয়াত দ্বারা ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুর বিষয়টি প্রমাণিত হয়ে থাকে তবে কেন মির্যাকে আল্লাহ তায়ালা কথিত ইলহামের মাধ্যমে ঈসার মৃত্যুর সংবাদ পুনঃবার জানিয়ে দিতে হবে? পবিত্র কুরআনের উক্ত ত্রিশ আয়াত কি যথেষ্ট ছিল না? 

 (স্ক্রিনশট দেখুন) 

(৯) ঈসা (আঃ) এর মৃত্যুর সংবাদ এতই জুরুরি হয়ে থাকলে মির্যার জন্মের-ও পূর্বে উম্মতে মুহাম্মদিয়া বিগত তেরশত বছর ঈসা (আঃ) এখনো জীবিত, তিনি দ্বিতীয় আসমানে রয়েছেন; ইত্যাদী মর্মে কেন সর্ব-সম্মতভাবে বিশ্বাস করে আসছেন? অথচ রাসূল (সাঃ) বলেছেন, লা ইয়াজতামিয়ু উম্মাতী আলাদ দ্বলালাহ (অর্থাৎ আমার উম্মত ভ্রষ্টতার উপর একমত হবেনা – তিরমিযী শরীফ দ্রঃ)! তবে কি রাসূল (সাঃ) ভুল বলে গেলেন? নাউযুবিল্লাহ। 

(১০) যদি বলেন যে, ঈসার মৃত্যুতে-ই ইসলামের জীবন! তখন আবার প্রশ্ন আসে, তাহলে মির্যা সাহেব কেন মূসা (আঃ) সম্পর্কে লিখে গেলেন যে, তিনি আসমানে আছেন, মৃত্যুবরণ করেননি, তিনি মৃতদের অন্তর্ভুক্তও নন! (নূরুল হক, রূহানী খাযায়েন ৮/৬৯-৭০ দ্রঃ)। এখন কী হবে? ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুতে ইসলামের জীবন হলে তখন মূসা (আঃ) এর জীবিত থাকার মধ্যে ইসলামের সেই ইন্টারেস্টটা কী বলবেন?

  • সুতরাং জ্ঞানী ব্যক্তি মাত্রই বুঝতে কষ্ট হবেনা যে, মূলত ঈসা (আঃ)-কে মৃত প্রমাণ করার উদ্দেশ্যেই মির্যা সাহেব জোরপূর্বকভাবে কুরআনের উক্ত ত্রিশ আয়াতকে ইচ্ছেমত ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন। যাতে তিনি ‘রূপক ঈসা‘ দাবী করে তদানীন্তনকালের দখলদার ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে ফতুয়াবাজী করে ‘জিহাদ‘ রহিত ঘোষনা দিতে পারেন। সে সাথে আসল ঈসা’র সিংহাসনটা-ও যদি দখলে নেয়া যায়, কথিত বুরুজি নবী দাবিতে যদি নতুন একটি ধর্ম-ও দুনিয়ায় রেখে যাওয়া যায়; তাতেও বা মন্দ কি?

 প্রথম পৃষ্ঠায় চলুন 

  • লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী (এম.এ)। দাওরা ও কামিল (ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট)। মেইল: nabifeni44@gmail.com
Share.

Leave A Reply

indobokep borneowebhosting video bokep indonesia videongentot bokeper entotin videomesum bokepindonesia informasiku videopornoindonesia bigohot