indobokep borneowebhosting video bokep indonesia videongentot bokeper entotin videomesum bokepindonesia informasiku videopornoindonesia bigohot

সূরা আলে ইমরানের ৮১ নং আয়াত ও কাদিয়ানিদের সংশয় নিরসন

0

প্রশ্ন : পবিত্র কুরআনে (০৩:৮১) একজন রাসূল আসবেন যিনি পূর্ববর্তী কিতাব সমূহের সত্যায়িত করবেন – এইরূপ বলা হয়েছে। এ সম্পর্কে জানাবেন!

জবাবপবিত্র কুরআনের উক্ত আয়াতটিতে “একজন রাসূল” আগমন করার যেই ভবিষৎবাণী রয়েছে তদ্দ্বারা ভারতীয় বংশোদ্ভূত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে উদ্দেশ্য নেয়া ঠিক নয়। তার কারণ, আয়াতটিতে ‘মীছাক” শব্দ এসেছে। এর অর্থ ‘অঙ্গীকার’। আল্লাহতালা রূহের জগতে সকল নবী ও রাসূলের নিকট হতে অঙ্গীকার নিলেন এই মর্মে যে, যদি তোমাদের নিকট এমন একজন রাসূল আগমন করেন যিনি (স্বীয় কিতাব দ্বারা) তাঁর পূর্ববর্তী কিতাব সমূহের সত্যায়নকারী হবেন তখন তোমরা তাঁকে (পাওয়া মাত্রই) সাহায্য করবে কি? তাঁর প্রতি ঈমান আনবে কি? এভাবে তাদের কাছ থেকে রূহের জগতেই অঙ্গীকার নেয়া হয়।

প্রিয় পাঠক! ইসলাম সম্পর্কে যাদের সচ্ছ জ্ঞান আছে তাদের নিকট গোপন থাকেনি যে, সেই খোদায়ী অঙ্গীকার পূর্ণকারী আখেরি পয়গম্বর হলেন খাতামুন নাবিয়্যীন মুহাম্মদে আরাবী (সাঃ)। আল্লাহতালা তাঁকে শেষ আসমানি কিতাব পবিত্র কুরআন মাজিদ দিয়েছেন। তিনি কুরআন মাজিদ দ্বারা পূর্বেকার সকল নবী রাসূলের সত্যায়িত করেছেন। সূরা আস-সফফ, আয়াত নং ৬ -তে দেখুন, ঈসা (আঃ) তাঁর অনুসারী বনী ইসরাইলকে কেমন শব্দচয়নে বলেছিলেন,

وَ اِذۡ قَالَ عِیۡسَی ابۡنُ مَرۡیَمَ یٰبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ اِنِّیۡ رَسُوۡلُ اللّٰہِ اِلَیۡکُمۡ مُّصَدِّقًا لِّمَا بَیۡنَ یَدَیَّ مِنَ التَّوۡرٰىۃِ وَ مُبَشِّرًۢا بِرَسُوۡلٍ یَّاۡتِیۡ مِنۡۢ بَعۡدِی اسۡمُہٗۤ اَحۡمَدُ ؕ فَلَمَّا جَآءَہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ قَالُوۡا ہٰذَا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ 

অর্থাৎ (স্মরণ কর,) যখন ঈসা ইবনে মরিয়ম বলেছিল, ‘হে বানী ইস্রাঈল! আমি তোমাদের প্রতি (প্রেরিত) আল্লাহর রসূল এবং আমার পূর্ব হতে (তোমাদের নিকট) যে তাওরাত রয়েছে, আমি তার সত্যায়নকারী এবং আমার পরে আহমদ নামে যে রসূল আসবেন, আমি তাঁর সুসংবাদদাতা।’ পরে সে যখন স্পষ্ট নিদর্শনাবলীসহ তাদের নিকট আগমন করল, তখন তারা বলতে লাগল, ‘এটা তো এক স্পষ্ট যাদু।’

সম্পর্কিত তথ্যঃ ঈসা (আঃ)-এর ঘটনা এই জন্য বর্ণনা করলেন যে, বানী ইস্রাঈলরা যেমন মূসা (আঃ)-এর অবাধ্যতা করেছিল, অনুরূপ তারা ঈসা (আঃ)-কেও অস্বীকার করেছিল। এতে নবী (সাঃ)-কে সান্ত্বনা দেওয়া হচ্ছে যে, এই ইহুদীরা কেবল তোমার সাথেই এইরূপ আচরণ করেনি, বরং তাদের সম্পূর্ণ ইতিহাসই নবীদেরকে মিথ্যাজ্ঞান করাতে ভরপুর। ‘তাওরাত’-এর সত্যায়ন বা সমর্থন করার অর্থ হল, আমি যে দাওয়াত দিচ্ছি, সেটা ঐ দাওয়াতই, যা তাওরাতে ছিল। আর এটা প্রমাণ করে যে, যে পয়গম্বর আমার পূর্বে তাওরাত নিয়ে এসেছিলেন এবং আমি ইঞ্জীল নিয়ে এসেছি, আমাদের উভয়েরই মূলসূত্র একটাই। কাজেই যেভাবে তোমরা মুসা, হারূন, দাউদ ও সুলাইমান (আলাইহিমুস্ সালাম) এর উপর ঈমান এনেছ, অনুরূপ আমার উপরেও ঈমান আন। কারণ, আমি তো তাওরাতের সত্যায়ন করছি, তার খন্ডন ও মিথ্যায়ন করছি না। এ বলে ঈসা (আঃ) তাঁর পর আগমনকারী শেষ নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর আগমনের সুসংবাদ শুনিয়েছেন। যেমন নবী (সাঃ) বলতেন, أَنَا دَعْوَةُ أَبِي إِبْرَاهِيْمَ وَبَشَارَةُ عِيْسَى (অর্থাৎ আমি পিতা ইবরাহীম (আঃ)-এর দু’আ এবং ঈসা (আঃ)-এর সুসংবাদের বাস্তব রূপ) [মসনাদে আহমাদ, সহীহ ইবনে হাব্বান, মুসতাদরিক লিল-হাকিম ২/৬০০; সীরাতে ইবনে হিশাম ১/১৬৬ দ্রষ্টব্য]।

হাদীসে আছে, আখেরি পয়গম্বর মুহাম্মদে আরাবী (সাঃ) ইরশাদ করেন, “আনা মুহাম্মদ ওয়া আহমদ।” অর্থাৎ আমি মুহাম্মদ এবং আহমদ। (দেখুন সহীহ বুখারী’র কিতাবুল মানাকিব এর আসমাউন নবী অধ্যায় দ্রষ্টব্য)।

এবার অর্থসহ আয়াতটি দেখুন। আল্লাহতালা ইরশাদ করেন :

وَإِذْ أَخَذَ اللّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّيْنَ لَمَا آتَيْتُكُم مِّن كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءكُمْ رَسُولٌ مُّصَدِّقٌ لِّمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنصُرُنَّهُ قَالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذَلِكُمْ إِصْرِي قَالُواْ أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُواْ وَأَنَاْ مَعَكُم مِّنَ الشَّاهِدِينَ

অর্থাৎ “আর আল্লাহ যখন নবীগণের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, আমি যা কিছু তোমাদের দান করেছি কিতাব ও জ্ঞান এবং অতঃপর তোমাদের নিকট কোনো রাসূল আসেন তোমাদের কিতাবকে সত্য বলে দেয়ার জন্য, তখন সে রসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তার সাহায্য করবে। তিনি বললেন, ‘তোমরা কি অঙ্গীকার করছো এবং এই শর্তে আমার ওয়াদা গ্রহণ করে নিয়েছ? তারা বললো, ‘আমরা অঙ্গীকার করেছি’। তিনি বললেন, তাহলে এবার সাক্ষী থাক। আর আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী রইলাম”।

লক্ষ্য করুন :

(১) আয়াতে পরিষ্কার এসেছে, আগমনকারী সেই রাসূল আপনা কিতাব দ্বারা তার পূর্ববর্তী সকল নবী রাসূলের সত্যায়ন করবেন। সূরা আস-সাফ এর ৬ নং আয়াতে-ও ঈসা (আঃ) এর ক্ষেত্রে ‘মুছাদ্দিকান‘ শব্দ এসেছে। ফলে অর্থ দাঁড়াল “আমার পূর্ব হতে (তোমাদের নিকট) যে তাওরাত রয়েছে, আমি তার সত্যায়নকারী।” কাজেই এখন সূরা আলে ইমরানের ৮১ নং আয়াতে উল্লিখিত সত্যায়নকারী সেই রাসূল দ্বারা মির্যা কাদিয়ানী উদ্দেশ্য হলে এমতাবস্থায় তার নতুন কিতাব আর নতুন শরীয়ত কোথায়? মিথ্যা আর প্রতারণার-ও একটা সীমা থাকা চাই!

(২) আয়াতে যেই ‘রাসূল’ সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে তাকে আল্লাহ নিজেই বহুপূর্বে মনোনীত করেন। তাই তাঁকে রূহের জগতে একজন অত্যাসন্ন ‘রাসূল’ সম্বোধনপূর্বক সবাইকে জানান দিলেন। তাফসিরের কিতাবে এর শানে নুযূল দেখে নিন, ইনশাআল্লাহ সব ধরণের বিভ্রান্তি দূর হয়ে যাবে।

অধিকন্তু মির্যার দাবী ছিল, সে নাকি শুধুমাত্র একজন উম্মতীনবী। যদিও ইসলামে উম্মতিনবী বলতে এইরূপ নতুন কোনো পরিভাষা খুঁজে পাওয়া যায়না। এককথায় মির্যার দাবীর সার ছিল, সে পূর্ব থেকে মনোনীত কোনো রাসূল নন, বড়জোর তার নবুওত(?) অন্য একজন রাসুলের আনুগত্যের মাধ্যমে উপার্জিত। আহমদীবন্ধুদের প্রতি প্রশ্ন, এমতাবস্থায় উক্ত আয়াতের ভেতর মির্যা কাদিয়ানীর অস্তিত্ব খুঁজে পেতে চাওয়া তারই নীতিবিরোধী নয় কি?

(৩) আয়াতে উল্লিখিত ‘লাতু-মিনুন্নাহ বিহী‘ (তথা অবশ্যই তাঁর প্রতি ঈমান আনবে) শব্দ রয়েছে। এটি আমাদের ডেকে ডেকে বলছে যে, ‘মীছাক ওয়ালী’ সেই রাসূলের প্রতি ঈমান আনা সকল নবী রাসূলের উপর আবশ্যক। কাজেই এখন যদি সেই রাসূল-ই (নাউজুবিল্লা) মির্যা কাদিয়ানী হন তাহলে তিনি (স্বীয় দাবী অনুসারে) উম্মতিনবী থাকলেন কোথায়? সমীকরণ তো মিলেনা!

(৪) সব চেয়ে বড় সমস্যা হল, উক্ত আয়াতের ভেতর যারা মির্যার অস্তিত্ব খুঁজে বেড়ান তারা যেন একথাও দাবী করতে চাচ্ছেন যে, আয়াতের ‘লাতু-মিনুন্না বিহী’ এর কারণে মুহাম্মদে আরাবী (সাঃ)-এর উপরও আবশ্যক হবে মির্যা কাদিয়ানীর উপর ঈমান আনয়ন করা! নাউজুবিল্লা। এখন নিজেরাই ভেবে দেখুন কোথাকার জল কোথায় ঢালছেন??

(৫) মির্যায়ীদের জন্য সব চেয়ে বড় দুঃসংবাদ হল, মুহাম্মদে আরাবী (সাঃ) নিজেই হাদীসে বলে গেছেন “লাও কানা বা’দী নাবিয়্যুন লাকা-না ওমর ইবনুল খাত্তাব” অর্থাৎ যদি আমার পরে কোনো নবী থাকত তাহলে সে ওমর ইবনুল খাত্তাব-ই হত। (তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং ৩৬৮৬)।

সুতরাং বুঝা গেল, মির্যায়ীরা পবিত্র কুরআনের ভেতর মির্যা কাদিয়ানীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার যেসব অভিনব ব্যাখ্যার পিছু নেয় তা পুরোপুরি ভ্রান্ত এবং পরিত্যাজ্য। নতুবা মুহাম্মদে আরাবী (সাঃ) কেন বললেন যে, তাঁর পরে যদি কোনো নবী থাকত তাহলে সে ওমরই হত? আশাকরি এই সূক্ষ্ম কথাগুলো আপনাদের নিশ্চয় ভাবিয়ে তুলবে। সংক্ষেপে এই পর্যন্ত।

আহমদীবন্ধুরা! এখনো সময় আছে কুফুরী থেকে ইসলামের মূলধারায় ফিরে আসুন। 

প্রাসঙ্গিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লিখার লিংক

   ওহী এবং রেসালত আদম (আঃ)থেকে শুরু হয়েছে আর মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর এসে খতম বা শেষ হয়ে গেছে

 www.markajomar.com/?p=4461

সূরা নিসা আয়াত নং ৬৯ ও কাদিয়ানিদের অপব্যাখ্যা নির্ভর কথিত উম্মতি নবী আগমন করার দলিল খন্ডন

 www.markajomar.com/?p=3359

সূরা আরাফ আয়াত নং ৩৫ ও কাদিয়ানিদের অপব্যাখ্যার জবাব

 www.markajomar.com/?p=4950

সূরা হজ্জ্ব আয়াত নং ৭৫ এবং কাদিয়ানিদের অপব্যাখ্যার জবাব

 www.markajomar.com/?p=3934

পবিত্র কুরআনের আরো যেসব আয়াত দ্বারা কাদিয়ানিরা উম্মতিনবী আসার মনগড়া দলিল পেশ করে তার জবাব

 www.markajomar.com/?p=4651

লেখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।

Share.

Leave A Reply

indobokep borneowebhosting video bokep indonesia videongentot bokeper entotin videomesum bokepindonesia informasiku videopornoindonesia bigohot